নিভৃত গ্রামাঞ্চলের কৃষক সিরাজুল হক এ বছর আবাদ করেছেন নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ। ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলন। সম্প্রতি ফসল সংগ্রহও শুরু হয়েছে তারা। অন্যান্য জাতের পেঁয়াজের চেয়ে নতুন জাতের এ পেঁয়াজ আবাদে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেজায় খুশি কৃষক সিরাজুল।

বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কন্দর্প মনোহারপুর গ্রামের কৃষক সিরাজুল হকের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অপরূপ সৌন্দর্যের পেঁয়াজ খেতের দৃশ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষক সিরাজুল হক তার ১৪ শতক জমিতে নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। এতে বীজ-সার দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে এই আবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম। এখান থেকে প্রায় ১৪ মণ পেঁয়াজ ঘরে তোলার আশার করছেন। যার বর্তমান বাজার দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন এই জাতের পেঁয়াজ আবাদ করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করছে কৃষি অফিস থেকে। খুব ভালো ফলন হয়েছে। এতে করে দ্বিগুণ লাভ থাকবে। আশা করি আগামীতে বেশি পরিমাণ জমিতে এ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করব।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ আমাদের এলাকায় আগে কখনও আবাদ হয়নি। এই প্রথম সিরাজুল হক ভাই নতুন এ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। ফলনও অনেক ভালো। আগামী বছরে আমিও এ পেঁয়াজ চাষ করব।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার বলেন, আমরা এই উপজেলায় বেশ কিছু কৃষককে প্রণোদনা সহায়তা দিয়েছি। গ্রীষ্মকালীন নাসিক (ফিফটি-থ্রি) জাতের পেঁয়াজ চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে আনন্দে মুখরিত কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এনামুল কবির তুহিন, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ-সার সরবরাহকৃত এই পেঁয়াজের ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় ভালো। ফলে চাষিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্রাচার্য বলেন, স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সংকট দূর করার লক্ষ্যে কৃষকদের অধিক ফলনশীল পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে আমাদের এই উদ্যোগ। ভোক্তারা স্বাচ্ছ্যন্দে সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারবেন মসলা জাতীয় এ পণ্যটি।
প্রতিনিধি/ এজে

