শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শামীম ওসমানহীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে লড়াই হবে চতুর্মুখী

মনি ইসলাম, ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

শামীম ওসমানহীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে লড়াই হবে চতুর্মুখী

দীর্ঘ দেড় দশক পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট; নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে এবার নেই সাবেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দাপট। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনী মাঠে লড়াইয়ের উত্তাপ কমেনি একটুও।

বরং বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলটিরই সাবেক তিন হেভিওয়েট নেতা। জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিপরীতে স্বতন্ত্র ও ভিন্ন দলের ব্যানারে মাঠে আছেন বিএনপির সাবেক তিন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও নেতা। ফলে ভোটারদের মাঝে এখন একটাই আলোচনা শামীম ওসমানহীন এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাচ্ছে জয়ের মুকুট?


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী কাসেমীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মো. শাহ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও এই নেতারা স্বতন্ত্র ও বিকল্প দলের ব্যানারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ৯ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, সেলিম মাহমুদ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ); অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন: এনসিপি (যুগ্ম সদস্য সচিব); মো. ইছমাঈল সিরাজী হোসেন কাউছার: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; আনোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস আহমেদ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস; মো. সুলাইমান দেওয়ান: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ); মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র): বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা; মো. শাহ আলম (স্বতন্ত্র): বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা; মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ; মোহাম্মদ আলী: বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য)। 

অন্যদিকে হলফনামা বা ভোটার তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে ইকবাল হোসেন (সিপিবি), ফাতেমা মনির (স্বতন্ত্র), মো. আরিফ ভূইয়া (গণঅধিকার পরিষদ), মো. সেলিম আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি) এবং মো. সালাউদ্দিন খোকা মোল্লার (জাতীয় পার্টি)।

প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও প্রচারণায় এগিয়ে আছেন বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বাদ দিয়ে জোটগতভাবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ আলমকে। তারা দুজনই বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। মূলত হেভিওয়েট এই তিন নেতার প্রার্থীতা নিয়ে জেলার মানুষের বিশেষ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালেও শামীম ওসমানের বিপক্ষে লড়েছিলেন মনির হোসাইন কাসেমী। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের চাপে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারেননি। ভোটগ্রহণের দিনও ভোটাররা মাত্র এক ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন। এরপর কেন্দ্রগুলো তৎকালীন সংসদ সদস্যের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে সেই এক ঘণ্টাতেই কাসেমী প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

এবার কাসেমীর পক্ষে বিএনপির মতো বড় একটি দল সরাসরি গণসংযোগে অংশ নিচ্ছে। তবে জোটের এই প্রার্থীর মূল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির সাবেক তিন প্রভাবশালী নেতা গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম ও মোহাম্মদ আলী।

এ বিষয়ে মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘২০১৮ সালের তুলনায় এবার নির্বাচনের পরিবেশ অনেক ভালো। তবে এবার আমাদের নিজেদের ঘরানার প্রার্থীদের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। বিএনপির সাবেক তিনজন শক্তিশালী নেতা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তা সত্ত্বেও জয়ের ব্যাপারে আমি ইনশাআল্লাহ শতভাগ আশাবাদী।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই আসনে মূল লড়াই হবে জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর সঙ্গে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম ও মোহাম্মদ আলীর।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর