গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসীর বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে দরজা, জানালা সহ ঘরের আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের পরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার প্রধান আসামি মো. শফিকুর রহমান মাস্টার (৮০) ও মো. শামসুল ইসলাম হীরা (২৫) নামের দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী প্রবাসী জাকিরের স্ত্রী নুসরাত জাহান অপি সদর থানা মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের গত ৫ জানুয়ারি নুসরাত জাহান অপি নিজের বসতঘরে তালা লাগিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পরদিন ৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদের বাড়ির পেছনে অবস্থিত ওই বসতবাড়িতে অভিযুক্ত শফিকুল রহমানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. শফিকুর রহমান, মাস্টার, শামসুল ইসলাম, হীরা, রনি (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে ভবনের বিভিন্ন দেয়ালের অংশ ভেঙে ফেলে। এতে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এছাড়াও টিনশেড ঘরে থাকা একটি এলইডি টিভি, ফ্রিজ, স্টিলের আলমারি, দেয়াল সুকেস, দুটি খাট, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক ২০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
বিজ্ঞাপন
প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী নুসরাত জাহান অপি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে তিনি দেখতে পান পুরো ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মূল্যবান মালামাল লুট হয়ে গেছে। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের কোনো জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। অভিযুক্তরা এর আগে কখনই ওই সম্পত্তি নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি। প্রায় তিন বছর আগে তারা ওই সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং দুই বছর ধরে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এদিকে এমন ঘটনায় জেলা শহরের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম জানায়, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা থানায় বুধবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে, দুইজনকে আটক করে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/ এজে

