সুন্দরবনে ২ জন পর্যটকসহ রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করা বনদস্যু বাহিনী প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) ও তার সহযোগী ইফাজ ফকির (২৫)কে আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আটক ডাকাতরা হলেন, বাহিনী প্রধান খুলনার তেরোখাদা উপজেলার বিপ্র আজগরা গ্রামের মোছা মৃধার ছেলে নাম. মাসুম মৃধা ও সহযোগী খুলনার তেরোখাদা উপজেলার একই গ্রামের মো. আক্তার ফকিরের ছেলে মো. ইফাজ ফকির।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গত বুধবার ৭ জানুয়ারি কোস্ট গার্ড খুলনার তেরোখাদা থানাধীন ধানখালী সংলগ্ন এলাকা হতে বাহিনীটির প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) কে আটক করে। পরবর্তীতে ডাকাত মাসুম মৃধার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ২ টি দেশীয় কুড়াল, ১ টি দা, ১ টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোট যোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী গোলকানন রিসোর্টের মালিক ও দুই পর্যটককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফাইন্যানশিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা মৃধা (৫৫) কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি/ এজে

