মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে চায়ের রাজধানীখ্যাত এ জেলা। দিনভর সূর্যের দেখা নেই, কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ। হিমেল হাওয়ার দাপটে কাঁপছে পাহাড়-হাওর আর চা-বাগানের জনপদ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবার ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সোমবার ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চা বাগান ও হাওরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে চা-শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর ও হাওরপারের বাসিন্দারা। অনেকে পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে ভোরে রওনা দিচ্ছেন কাজে, কেউবা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। জেলার ৯২টি চা-বাগানের শিশুরা কাঁপছে ঠান্ডায়, বয়স্করা ভুগছেন শীতজনিত রোগে। এখনও অনেক পরিবার পায়নি পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোরেই কাজে নামতে হচ্ছে তাদের।
জেলার কয়েকটি চা-বাগানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে বাগানের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চা শ্রমিকদের ভোগান্তি বাড়ছে। ঠান্ডায় কাঁপাকাঁপা হাতে তারা তুলছেন চা-পাতা, অথচ অধিকাংশ পরিবারেই নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শিশু, বৃদ্ধ ও নারী শ্রমিকরা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে।
চা শ্রমিক বুলু রবিদাস বলেন, সকাল থেকেই ঠান্ডায় হাত-পা জমে যায়, তবুও কাজ করতে হয়। পাতাও ভিজা থাকে, তুলতে কষ্ট হয়।
বিজ্ঞাপন
আরেক চা শ্রমিক মুনি উড়াং বলেন,গরম কাপড় নাই, কষ্ট হয় খুব। সরকার যদি কিছু সহায়তা করতো, ভালো হইতো।
এদিকে, কাউয়াদীঘি হাওরপারে গিয়ে দেখা গেছে, শীত নিবারণে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন অনেকে। তবে শীতবস্ত্র বিতরণ এখনও আশানুরূপভাবে শুরু হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
হাওরপারের বানেশ্রী এলাকার চাষি রমেশ দাস বলেন, ঘন কুয়াশায় অনেক সময় চারা পচে যায়, আর রোদের অভাবে জমিও ভালো শুকায় না। ফসলের খেতে কাদার মধ্যে পা রাখতে কষ্ট হয়।
কাদিপুর এলাকার চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, এই ঠান্ডায় সকালে মাঠে নামা খুব কষ্টকর। বাতাসে শরীর কাঁপে। শীতের সময় গরু-ছাগলও অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরুর জন্য ঘাস কাটতেও ঠান্ডায় সমস্যা হয়।
![]()
চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন এস এম শুভ। তিনি বলেন, প্রতি বছরই শীতে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা চরম কষ্টে থাকেন। বেশিরভাগ পরিবারেই শীতবস্ত্র নেই। আমরা চাই, সরকারের পক্ষ থেকে এই শীতপ্রবণ এলাকায় চা শ্রমিকদের জন্য শীতবস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। মৃদু শৈতপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে দিনের বেলা রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে।
জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, সদরসহ সাতটি উপজেলায় গরিব অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিতরণ করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি

