বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শীতে কাবু চুয়াডাঙ্গা, ৬.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দিশেহারা মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শীতে কাবু চুয়াডাঙ্গা, ৬.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দিশেহারা মানুষ
শীতে কাবু চুয়াডাঙ্গা

হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। আজ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডে বিপর্যস্ত এ জনপদ। হিমেল বাতাসের দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ না থাকায় শীতের তীব্রতা কমেনি। হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


বিজ্ঞাপন


তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষদের খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীতের প্রকোপে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

 

Chuadanga_Cold_wave_(4)

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলাজুড়ে এই মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা ঠিকমতো না মেলায় শীতের অনুভূতি ছিল অনেক বেশি। আজ সকালে রোদের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে ঠান্ডার দাপট কমেনি। রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে লোকসমাগম অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলছে দেরিতে।

শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে শ্রমজীবীদের কথায়। শহরের এক ভ্যানচালক শাহ আলম বলেন, বাতাসের যে দাপট, তাতে ভ্যান চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তায় যাত্রীও খুব কম। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু ঠান্ডায় হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে।

শ্রমজীবী মানুষের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে দিনমজুর আলমগীর বলেন, শীতের কারণে কেউ কাজে ডাকছে না, আবার কাজ পেলেও ঠান্ডার কারণে মাঠে বেশিক্ষণ টেকা যাচ্ছে না। আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য এই শীত বড় কষ্টের। কাজ না করলে খাব কী, আর কাজ করতে গেলে শরীর চলে না।

thumbnail_Chuadanga_Cold_wave_(6)

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শীতজনিত রোগবালাই। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বোরো ধানের বীজতলা হলদে হয়ে যাওয়াসহ আলুর ক্ষেতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কনকনে ঠান্ডায় কৃষকরা ঠিকমতো মাঠে কাজ করতে পারছেন না, ফলে ব্যাহত হচ্ছে রবি শস্যের পরিচর্যা।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর