তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় কাঁপছে যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মানুষজন জবুথবু হয়ে পড়েছে। নিম্ন-আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। গত দুই সপ্তাহে সূর্যেরও দেখা মেলেনি।
ঘন কুশায়ায় সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে হ্যাডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। কৃষকরা পরিচর্যার জন্য ক্ষেতে যেতে পারছেন না। বেশি দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। এ অবস্থায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
![]()
রিকশাচালক সুজাবত আলী ও আকরাম হোসেন জানান, বাইরে তীব্র শীত, তবুও কাজে বের হয়েছি। ঘন কুয়াশা এবং শীতের কারণে যাত্রী নেই। ঠাণ্ডার কারণে কেউ রিকশায় উঠতে চায় না। অধিকাংশ মানুষই হেঁটেই চলাচল করছেন। শীতের কারণে কোনো কাজকর্ম নেই। ঘরের বাইরে বের হলেই হাত-পা কাহিল হয়ে যায়। আর্থিক সংকটে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে গেছে।
ট্রাকচালক হায়দার আলী আলী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সড়ক-মহাসড়ক কুয়াশাচ্ছন্ন। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে। কবে যে শীত কমবে তারও কোনো সময় নেই। এবার শীত বেশি হওয়ায় কষ্টে আছি আমরা।
বিজ্ঞাপন
![]()
সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, এবার শীত একটু বেশি। এই শীতে যতদূর সম্ভব ঘর থেকে কম বের হতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরিধান করতে হবে। তা না হলে শীতজনিত রোগ, সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিনিধি/টিবি

