বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা, জনজীবন স্থবির

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা, জনজীবন স্থবির
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


বিজ্ঞাপন


তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই জানান, শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Cold_wave_Chuadanga_(10)

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, গতকাল রোববার সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। হালকা কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে জেলার জনপদগুলো কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে। সোমবার সকালে সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও ঠান্ডার দাপট কমেনি।


বিজ্ঞাপন


কনকনে শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের।

Cold_wave_Chuadanga_(2)

ভ্যানচালক আসলাম উদ্দিন বলেন, এই শীতে রাস্তায় যাত্রী খুব কম। দুই-একজন যাত্রী নিয়েই বের হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে ঠান্ডা বাতাসে, শরীর ঠিক রাখা খুব কষ্টকর।

নির্মাণ শ্রমিক আবদুল সবুর বলেন, কনকনে শীতে পানি নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন। পানিতে হাত দিলেই বরফের মতো ঠান্ডা লাগে। তবুও কাজ না করলে সংসার চলে না।

মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, বেলা হয়ে যাওয়ার পরও সূর্যের দেখা না মেলায় বাজারে লোকজন আসছে না। এই শীতে সকালে দোকান খুলতেও কষ্ট হয়, প্রায় ১১টা বেজে যায়।

শীতের প্রকোপ বাড়ায় জেলাজুড়ে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

Cold_wave_Chuadanga_(4)

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর বাবা শাহিনুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে ছেলের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। ঠান্ডা মেঝেতেই বাচ্চাকে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা খুব কষ্টকর।

আরেক অভিভাবক হামজা আলী বলেন, গত দুই দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। রোগীর চাপ এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা নেই। মেঝেতেই চিকিৎসা চলছে। কষ্ট হলেও চিকিৎসক ও নার্সরা যথাসাধ্য সেবা দিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের প্রভাবে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে। এতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং হাসপাতালে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছি।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর