জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ এর ওপর গণভোটের প্রচারণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনার গ্রাম ও হাওরাঞ্চলের মানুষ। প্রচারণার কাজে নিয়োজিত গাড়িটি শুধুমাত্র উপজেলা শহরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে ৫-১০ মিনিট অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে শহরের অধিকাংশ মানুষ যেমন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তেমনি গ্রামে কোনো প্রচারণা না পৌঁছানোয় সাধারণ ভোটাররা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
গতকাল সোমবার ভোরে বারহাট্টা উপজেলা শহরে প্রচারণার গাড়িটি মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে। এরপর মোহনগঞ্জ পৌরশহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাঠে কিছুক্ষণ সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণা শেষ করে চলে যায়। এর আগে গতকাল রবিবার রাতে জেলা শহরে জনশূন্য মাঠে একইভাবে কয়েক মিনিট অবস্থান করে প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই একইভাবে দায়সারাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শহরের নির্জন স্থানে বা জনশূন্য মাঠে মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছে প্রচারণার গাড়িটি।
এদিকে নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট না থাকায় সেখানে প্রচারণার গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দুর্গম এসব এলাকায় নৌকার মাধ্যমে প্রচারণা পৌঁছানোরও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জেলা সদরের সিংহের বাংলা গ্রামের শহীদ মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ির নাম তো জীবনে প্রথম শুনলাম। এটা আবার কেমন জিনিস?‘ খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার আসাদ মিয়া জানান, ভোটের গাড়ি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। বারহাট্টা শহরের বাসিন্দা রুকন মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভোটের গাড়ি কখন আসলো আর কখন গেলো, কিছুই জানলাম না।’
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক বলেন, ‘শহরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন থাকলেও প্রকৃত প্রচারণা দরকার গ্রামে। প্রচারণা প্রান্তিক পর্যায়ে না পৌঁছালে এর কোনো সুফল আসবে না।’ মোহনগঞ্জের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম ও পূর্বধলার হাবিবুর রহমানও একই ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রচারণাকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম জানান, তার এলাকায় এখনো গাড়ি পৌঁছায়নি। তবে বর্তমানে ফেরি চলাচল করায় গাড়ি আসা সম্ভব। মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ও বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জিনিয়া জামান জানান, গাড়িগুলো ভোরে বা খুব অল্প সময়ের জন্য আসায় সাধারণ মানুষের নজরে আসেনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘গতরাত ৮টার দিকে জেলা শহরে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবে ওই সময় লোকসমাগম তেমন ছিল না। একটি কেন্দ্রীয় টিম সারাদেশে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাই তাদের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে বা হাওরাঞ্চলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
প্রতিনিধি/একেবি

