স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ির ডালার নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৭ লাখ টাকার উৎস জানাতে না পারায় তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার প্রধান আসামি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম বর্তমানে এলজিইডির সদর দফতরেসংযুক্ত আছেন।
২০২৪ সালের ১৪ মার্চ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ছাবিউল ইসলামের ভাড়া করা একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় গাড়ির পেছনের ডালার নিচ থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
বিজ্ঞাপন
রাজশাহীতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে আজ সোমবার মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি ছাবিউল ইসলাম ছাড়াও অবৈধভাবে অর্জিত টাকা বহন ও স্থানান্তরের সহযোগিতার অভিযোগে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন বাপ্পি কুমার দাস; রিন্তু কুমার দাস (বাপ্পি কুমার দাসের ছেলে)।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, উদ্ধারকৃত অর্থ ছাবিউল ইসলাম তার দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়: ‘উদ্ধারকৃত অর্থ কোনো বৈধ আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যেই তিনি তা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছিলেন।’
দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত শাখা।
বিজ্ঞাপন
ছাবিউল ইসলাম এর আগে গাইবান্ধায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিনিধি/একেবি

