মাদারীপুরে মাত্র ৩ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত ইজিবাইক চালক সোহান মিয়া (১৮) মারা গেছেন। একই ঘটনায় আমিন (২০) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহানের মৃত্যু হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। সোহান ওই এলাকার মৃত ইয়াদ আলী মিয়ার ছেলে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সোহান ও আমিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাজৈর উপজেলার স্লুইসগেট এলাকার লাল মিয়ার ছেলে রতন (১৮), তার খালাতো ভাই সাজ্জাদ (১৮), কানাইপুর গ্রামের আকা মিয়া ও তার ছেলে রিয়াজ মিয়া। রতন দীর্ঘদিন ধরে তার মামাবাড়ি কানাইপুরে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকার ভাড়াটিয়া আমিনের সাথে ইজিবাইক চালক সোহানের বন্ধুত্ব ছিল। কয়েক মাস আগে আমিন তার একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পরিচিতির সূত্র ধরে রতনের কাছে ২ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। গত ২৪ নভেম্বর টাকা জোগাড় করে রতনের কাছে মোবাইলটি ফেরত নিতে যান আমিন। তখন রতন তাকে কানাইপুর গ্রামের আকা মিয়ার কাছে পাঠান।
আকা মিয়ার কাছে গিয়ে পাওনা ২ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলে তিনি অতিরিক্ত আরও ১ হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রতন ও তার খালাতো ভাই সাজ্জাদ দলবল নিয়ে আমিনের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে বন্ধুকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে যান সোহান। সেখানে রতন ও তার সহযোগীরা আমিন ও সোহানকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ৪২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রোববার সন্ধ্যায় সোহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের মা মেহেরীন (৪২) বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামি শেফালী বেগমসহ (৪৮) মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত সোহানের মা মেহেরীন আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ছেলে কেবল মারামারির খবর শুনে সেখানে দেখতে গিয়েছিল। ওর সাথে কোনো বিরোধ ছিল না। অথচ সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করল। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।’
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘এই হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় একজনসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
প্রতিনিধি/একেবি

