বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যশোরে ফের একজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

যশোরে ফের একজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

এবার যশোরের মণিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৫) নামের এক চরমপন্থি সদস্যকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


এর আগে, ৩ জানুয়ারি যশোর শহরে শংকরপুরে বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নিহত রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। কপালিয়া বাজারে তার বরফকল ফ্যাক্টরি রয়েছে। এছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। তবে এলাকায় তিনি চরমপন্থি সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তিনি জেলার অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার সাবেক শ্রমিক নেতা ওলিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চরমপন্থি দলে সক্রিয় থাকায় তিনি মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলায় চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে কপালিয়া বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন রানা প্রতাপ। সন্ধ্যার দিকে বরফকালের পাশে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা তার মাথায় গুলি করে মণিরামপুরের দিকে চলে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধারের আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

​এ ঘটনার পরপরই কপালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় মণিরামপুর থানা পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু বলেন, দুই বছর ধরে কপালিয়া বাজারে বরফকল পরিচালনা করে আসছেন রানা। সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে বরফকল থেকে ডেকে বাজারে অবস্থিত ক্লিনিকের পাশে গলি রাস্তার মুখে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করে।

রিপন হোসেন সাজু নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে জানান, হত্যাকারীরা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে এসে রানাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে পাশে একটি গলিতে নিয়ে যায়। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রানার মাথায় কয়েক রাউন্ড গুলি করে মণিরামপুরের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে রানার লাশের পাশে সাতটি গুলির খোসা পড়ে ছিল।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত রানা প্রতাপের নামে যশোরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ছিল। তিনি চরমপন্থি দলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। এছাড়া নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি।

পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, নিহত রানা প্রতাপ আমাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। একসময়ে তার নামে মামলা থাকলেও সবগুলো থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। 

নিহত রানার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা কেমভপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রানা প্রতাপের নামে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলে তারা জানেন। ঝামেলা এড়াতে তিনি এলাকায় খুব একটা থাকতেন না। মণিরামপুর ও অভয়নগর এলাকায় তার অবস্থান ছিল। এছাড়া মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তার বরফকল’র ব্যবসা রয়েছে।

​এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে, এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুরে দুর্বৃত্তরা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে। নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে গুলি করে এমন হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।  

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর