বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই আন্দোলনে নিহত

১৭ মাস পর গণকবর থেকে শনাক্ত মুন্সিগঞ্জের শহীদ সোহেল রানার মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ 
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

১৭ মাস পর গণকবর থেকে শনাক্ত মুন্সিগঞ্জের শহীদ সোহেল রানার মরদেহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত হিসাবে দাফনকৃত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা সোহেল রানা (৩৭) সহ ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সিআইডি।


বিজ্ঞাপন


শহীদ সোহেল রানা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় সে। তবে তখন পরিবারের অগোচরে তার লাশ বেওয়ারিস ভাবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। অভ্যুত্থানের ছেলে শহীদ হয়েছে বলে জানতে পারলেও দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে স্বজনের লাশের অবস্থানে অপেক্ষায় ছিলো পরিবার।

পরিবারের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সোহেল ছিলো সবার বড়। দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই চাইতেন সোহলে রানা। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মো. সোহেল রানা, তবে এরপর আর খোঁজ মিলেনি তার। ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গ সহ বিভিন্ন জায়গায় হন্য হয়ে খোঁজেও পায়নি তাকে। ৩৪ দিন পর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন তার পরিবার।

শহীদ সোহেলের ভাই জুয়েল ও নাবিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমার ভাই দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই তিনি চাইতেন। শাহাবাগ থানা থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজলা যাত্রাবাড়িতে সোহলকে শারীরিক নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে এত পরিমাণ গুলি ছিলো সেটা গুনে শেষ করা যায়নি। সোহেলের মৃত্যু নিশ্চিতে সনদ হিসাবে একটি কাগজ পাই। সেই সাথে শাহবাগ থানার অজ্ঞাত-২৮ জিডি নাম্বার ১৩৫৯ এর কপি আর কিছু বীভৎস ছবি পেয়েছিলাম। রায়ের বাজার কবরস্থানে সোহেলকে বেওয়ারিস হিসাবে দাফন করা হয়।

এদিকে, অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাস পর সন্তানের মরদেহ শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে শহীদ সোহেল রানার মা সহ পরিবারের সদস্যরা। আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।


বিজ্ঞাপন


শনাক্ত হওয়া অন্য শহীদরা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ ব্যাপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম (২৫), শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।

সিআইডি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

সিআইডির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরই মধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধি/এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর