বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নোয়াখালীতে ৫ কোটির মালামাল ১৯ লাখে বিক্রি, প্রকৌশলীকে ঘিরে উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

নোয়াখালীতে ৫ কোটির মালামাল ১৯ লাখে বিক্রি, প্রকৌশলীকে ঘিরে উত্তেজনা

নোয়াখালীতে প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের হাতে একদিন অবরুদ্ধ থাকার পর, পরদিন তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তাকে ‘পলাতক’ বলে দাবি করছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যালয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।


বিজ্ঞাপন


ঠিকাদারদের অভিযোগ, ড্যানিডার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে, নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে তোলা হয়। অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি।

এই সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘মেসার্স শাহনাজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, নিলামে দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার ফুটসহ বিভিন্ন মাপের প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট পাইপ বিক্রি করা হয়েছে। নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমান উল্লাহ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিস্তারিত জানতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অধিদফতরের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। এতে জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এছাড়া, যেসব ঠিকাদার মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে পারেননি, তাদের কার্যাদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে, কমিশন দিয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদারদের।

মেসার্স এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি করছি। এভাবে প্রকাশ্যে লুটপাট আগে কখনো দেখিনি। জুলাই আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম অনিয়ম বন্ধ হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো নিলাম দিইনি; নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’ অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি পলাতক নন বরং অফিসের কাজে সাইট পরিদর্শনে ছিলেন।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর