দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক জেলা বগুড়ায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী রোববার তাঁর বগুড়া সফরকে ঘিরে জেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। লন্ডনে দীর্ঘ দেড় যুগ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটি তাঁর প্রথম সফর।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, রোববার সকালে গুলশানের বাসা থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। বগুড়ায় পৌঁছে তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন জেলা বিএনপির আয়োজনে সদ্যপ্রয়াত দলীয় চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত গণ দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
বিজ্ঞাপন
জেলার নেতারা আশা করছেন, এই গণ দোয়া মাহফিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, দোয়া মাহফিলের পরপরই তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবেন। এ কারণে সফরটিকে ঘিরে বগুড়ায় বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুর যাবেন এবং সেখানে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। তবে তিনি বগুড়ায় পৌঁছেই রংপুর যাবেন, নাকি পরদিন দোয়া মাহফিল শেষে রওনা করবেন, তা গুলশান কার্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরজুড়ে সাজসাজ রব পড়েছে। নবাববাড়ী সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তাঁর বসার জন্য নির্ধারিত কক্ষটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। এত দিন কক্ষটি ব্যবহার না হলেও এখন সেখানে প্রতিদিন নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই থাকছে।
বিজ্ঞাপন
শহরের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতকাজ করা হয়েছে। সাতমাথা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত দীর্ঘদিন খানাখন্দে ভরা সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার উদ্যোগে শাকপালা মোড়ের দীর্ঘদিন অবহেলিত পার্কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনের গ্রিন এস্টেট বাড়িটিও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িটি ২০০০ সালে সংস্কার করে ‘গ্রিন এস্টেট’ হিসেবে গড়ে তোলেন তারেক রহমান। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মাঝেমধ্যে এখানে অবস্থান করতেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় তারেক রহমান বিএনপির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিনিধি/ এজে

