বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ফরিদপুরে স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ফরিদপুরে স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

ফরিদপুরে একটি স্কুল চত্বরের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জেলার সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গারদিয়া গ্রামের মো. জালাল মোল্যার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের ৮টি মেহগনি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কেটে ফেলেন ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বর। গাছ কাটার বিষয়টি জালালের সমর্থক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কাটা গাছের গুঁড়ি ফেলে পালিয়ে যান নান্নু মাতুব্বরের শ্রমিকরা। পরে গাছগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে আসে পুলিশ।

এদিকে গাছ কাটার খবর পেয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে যান সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. তাশেম উদ্দিন। তিনি ঘটনাটি তদন্তের জন্য উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসেন। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জালালের সমর্থক মো. বাদশা মোল্যা ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন নান্নু মাতুব্বরের সমর্থকরা।

এরই জেরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘শনিবার স্কুলের গাছ কেটে ফেলে স্থানীয় একটি চক্র। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গাছগুলো উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখে। রোববার সকালে ঘটনাটি তদন্তের সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর