বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আতঙ্কে কর্মচারীরা

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সিরাজগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সিরাজগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় সবার আগে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরানো ভবনের জন্য এখন নিজেরাই জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন সিরাজগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। একদম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সিরাজগঞ্জের সদরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের কার্যক্রম।

siraj_2


বিজ্ঞাপন


দীর্ঘদিনের পুরানো এই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেঁকে গেছে জানালার গ্রিল। বিনষ্ট হয়ে গেছে দরজার চৌকাঠ। এছাড়াও ফাটল দেখা দিয়েছে ব্যারাক, গ্যারেজ বিল্ডিং, অফিস কক্ষের পিলার ও দেয়ালে। এছাড়াও ভবনের ছাদ, কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে, সেই সঙ্গে বৃষ্টি হলেই রুমে চুইয়ে আসছে পানি। পাশের আরেক ভবনে বসবাস করছেন কর্মীরা। সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। 

siraj_3

জানা যায়, ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ইলিয়াড ব্রিজের পাশে নির্মাণ করা হয় সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস। একতলা বিশিষ্ট এই ফায়ার সার্ভিসে নিচ তলায় রয়েছে পানিবাহী গাড়ির গ্যারেজ ও অফিস। আর ছাদের উপরে রয়েছে পানির রাখার ট্যাংকের ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিনের পুরাতন স্থাপনা হওয়ায় বর্তমানে ভবনটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথায় কোথায় ভেঙে পড়েছে প্লাস্টার, দেখা মিলেছে ডিমের রড। এরপর কয়েকবার মেরামতও সংস্কার করা হলেও বেহাল অবস্থার মধ্যেই চলছে সার্ভিসটির কার্যক্রম। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের নতুন ভবন হলেও সদরের একমাত্র ৬৪ বছরের পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ফায়ার সার্ভিসের সেবাদান কার্যক্রম। প্রথম শ্রেণির জেলার জন্য দরকার প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। কিন্তু এই ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম চলছে দ্বিতীয় শ্রেণির। অফিসের কর্মরতরা বলছেন, এমন অবস্থায় ৫ মাত্রায় ভূমিকম্প হলেই ধসে পড়তে পারে ভবনটি। এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বসেই দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন অফিসে কর্মরত মোট ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ভবন ধসের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

siraj_1


বিজ্ঞাপন


সিরাজগঞ্জ ফায়ার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ভবনটি কোনো মতো জোড়াতালি ও মেরামত করে চলছে সেবাদান কার্যক্রম। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে-কোনো সময় ৫ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

siraj_6

ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মী ফায়ার ফাইটার আব্দুর ছবুর তালুকদার বলেন, আমরা ব্যারাকে থাকি, বৃষ্টি হলেই ভবন দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া বারান্দা দিয়ে পানি, থাকার মতো পরিবেশ নাই। যে রুমে থাকি তার ছাদ খসে পড়ছে। সবসময়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। নতুন ভবন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

siraj_4

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসগুলোতে চিঠি দিয়েছি। গত বছর (৪ নভেম্বর) দ্বিতীয় শ্রেণির ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথম শ্রেণির স্টেশনে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা আবেদন করেছি, যে কাজ অনেকটা এগিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে কার্যক্রম চলমান আছে। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হাসান জানান, ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় জন্য আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। সরেজমিনে ভবনটিতে পরিদর্শন করে দেখেছি ভবনটি বিভিন্ন জায়গায় ফাটল রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু প্রথম শ্রেণির জেলা, প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অবশ্যই প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর