বিগত সময়ের নির্বাচনে শুধু নির্বাচন বা নির্বাচন কমিশনই নয়, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কলঙ্কিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনার বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পটভূমি ছিল সত্যিকারের গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও খারাপ নির্বাচন ব্যবস্থা। আমরা যদি এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের জন্য গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ। বিষয়টি আমাদের সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। বিগত সময়ে যে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে শুধু নির্বাচন, বা নির্বাচন কমিশন নয় -দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। অন্যান্য বাহিনী পুলিশকে সহায়তা করবে এবং গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়েছে বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এখন থেকেই আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে -যেন কোনো অবস্থাতেই এই নির্বাচন বিঘ্নিত, নষ্ট, বা বিতর্কিত না হয়। আমাদের দায়িত্ব হলো- সৎভাবে ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।
তিনি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার তিনটি মূল শর্তের কথা তুলে ধরে বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। তিনি বলেন, আমাদের কাজ হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনের আলোকে। কোনো পক্ষাবলম্বন না করে পূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করা।

এরপর নির্বাচন কমিশনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আরেকটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলাপ্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সামরিক, বিজিবি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/এসএস

