মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে ফের শৈত্যপ্রবাহ, বিপর্যস্ত জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ এএম

শেয়ার করুন:

একদিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় ফের মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, জনজীবন বিপর্যস্ত

মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার দাপটে স্বাভাবিক জনজীবন ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। এর আগে টানা চার দিন জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) একদিনের জন্য শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা কেটে গেলেও আজ থেকে আবারও জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


Chuadanga_Cold_wave_(5)

এদিকে, গতকাল রোববার সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার জনপদ। হালকা কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। সোমবার সকালে সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও ঠান্ডার দাপট কমেনি।

কনকনে শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের।

শীতের প্রকোপ বাড়ায় জেলাজুড়ে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


Chuadanga_Cold_wave_(1)

তীব্র শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরের একাধিক স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল, শীতের কাপড় ও অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে শীতার্ত মানুষদের খুঁজে খুঁজে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে কিছুটা হলেও শীতার্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

 

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, প্রায় সপ্তাহজুড়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকতে পারে। এ সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর