জাতীয় ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৪ জানুয়ারি) যবিপ্রবিতে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফ হোসেন গ্যালারিতে কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মোনাজাতসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এ শোকসভা আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির সম্মানিত রিজেন্টবোর্ডের সদস্য অধ্যাপক নার্গিস বেগম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন, মানবিক, বাংলাদেশের রাজনীতির আলোকবর্তিকা ও পথ প্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই আমরা স্মৃতিকাতর হয়ে যাব। তিনি ছিলেন দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকারী ও আপসহীন নেত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দেশের গণতন্ত্র ছিল ভঙ্গুর, অর্থনীতি ছিল দুর্বল, রাষ্ট্র কাঠামো ছিল খারাপ। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সবকিছু নতুনভাবে সাজিয়ে একটি উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেন। তিনি দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। নারী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষাসহ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় তার চিন্তা ধারা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এছাড়াও যশোরের উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। সবাইকে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় তিনি দোয়া করতে বলেন।
![]()
বিজ্ঞাপন
শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, মাতৃসম, মহীয়সী নারী, ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ঐক্য ও সার্বভৌমত্বকে ঠিক রাখতে আজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় হয়ে সবার মনে আজীবন রয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ইঞ্জি. মো. ইমরান খান, অডিট শাখার সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, প্রক্টর দপ্তরের কর্মচারী মো. রবিউল ইসলাম ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিনসহ প্রমুখ। এছাড়াও শোকসভায় যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, দফতর প্রধানরাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাদ জোহর যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি/এসএস

