নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি মালামাল (গভীর নলকূপের পাইপ ও যন্ত্রাংশ) নিয়মবহির্ভূতভাবে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে গোপনে ভাগবাঁটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এসময় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিভিন্ন ঠিকাদাররা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরের পরে বিভিন্ন ঠিকাদার নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দফতরে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বিজ্ঞাপন
সূত্রে জানা যায়, সরকারি ক্রয় নীতিমালা (PPR) অনুযায়ী ই-জিপি (e-GP) টেন্ডারের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালামাল বণ্টন করার কথা থাকলেও, নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো ঘোষণা ছাড়াই তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেটের সাথে গোপনে মালামাল ভাগ করার প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ ঠিকাদাররা একত্রিত হয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যালয় ঘেরাও করেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে অনিয়মের ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দিনভর দফায় দফায় তারা নির্বাহী প্রকৌশলীকে চাপ প্রয়োগ করলে এ সময় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে ঠিকাদারদের চাপের মুখে ওই বিতর্কিত মালামাল বণ্টন প্রক্রিয়া এবং টেন্ডার কার্যক্রম বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রতিটি বিলে নির্দিষ্ট শতাংশ (পিসি) কমিশন ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর না করার অভিযোগ। হাতেগোনা ২-৩টি লাইসেন্সের মাধ্যমে বড় বড় কাজ কুক্ষিগত করা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রতিনিধি/এসএস

