সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

দোহারে সারের বাড়তি দাম, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

উপজেলা প্রতিনিধি, দোহার-নবাবাগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

দোহারে সারের বাড়তি দাম, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

ঢাকার দোহার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দাম দিয়ে সার কিনছেন। বাড়তি দামে সার কেনার ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার কৃষকেরা কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত  থেকে ফসল উৎপাদন ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকলেও রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকদের কাছ থেকে সার বাবদ বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। উপজেলায় রাসায়নিক সারের কোনো সঙ্কট না থাকলেও কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অধিক মুনাফা গুনছেন  ডিলার ও সাব ডিলারেরা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নের একজন করে বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগ  দেওয়া হয়েছে। চাহিদা মোতাবেক বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা সার কিনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। স্থানীয়  কৃষকদের অভিযোগ,  প্রতি কেজি  ইউরিয়া ২৭ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ২৭ টাকা, ডাইঅ্যামোনিয়া ফসফেট ২১ (ডিএপি)  ও মিউরেট অব পটাশ ২০ টাকা মুল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও  সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় আমাদের কাছ থেকে কেজিতে ৩ টাকা থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে তেমন কোনো পদক্ষেপই নেয়নি উপজেলা কৃষি অফিস। তারপরও প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।


বিজ্ঞাপন


উপজেলার উত্তর রাইপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম জানান, ২১ টাকার ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে ৩০টাকা কেজি দরে। তারপরও অনেক সময় আমাদেরকে জোরপূর্বক জমাটবাধা সার গছিয়ে দেয় বিক্রেতারা।

আরও পড়ুন

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর মুখ বেঁধে ৩০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই

উপজেলার শিলাকোঠা এলাকার কৃষক রিপন মোল্লা জানান, ইউরিয়া প্রতি কেজি ৩ টাকা করে  বেশি রাখছে বাংলাবাজার এলাকার খুচরা সার বিক্রেতারা। বাড়তি দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বিক্রেতারা।

জামালচর এলাকার কৃষক  মো. জাহাঙ্গীর জানান, এ সময়ে সারের চাহিদা থাকায় সার চাইলে তারা দিতে অপারগতা জানায়। আবার বেশি দাম দিলে সার দেয় তারা। এ নিয়ে কৃষি অফিসকে অবগত করে প্রতিকার পাইনি আমরা। 


বিজ্ঞাপন


উপজেলার লটাখোলা বাজারের খুবরা সার বিক্রেতা প্রান্ত ট্রের্ডাসের মালিক বাদল দাস জানান, ডিলারদের কাছ থেকে আমাদেরকে সব ধরনের সারই বস্তা প্রতি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এমনকি গত কয়েক মাস ধরে টিএসপি সারের দেয় না আমাদের নির্ধারিত ডিলাররা। 

উপজেলার কাঠালীঘাটার কৃষক মো. সেলিম জানান, প্রতি বস্তা ডিএপি সার ১৫০০ টাকা ও ইউরিয়া সার ১৪০০ টাকা কিনতে হয়েছে। প্রতি বস্তায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। এতে আমাদের উৎপাদন করে বেড়ে যাওয়ায় কৃষি কাজে আমরা প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে রয়েছি। 

নিকড়া বটতলার খুচরা সার তামিম তাহজিদ ট্রেড্রাসের খুচরা সার বিক্রেতা  ইমদাদ মোল্লা, বর্তমানে আমাদের কাছ থেকে ডিলাররা অত্যধিক বেশি দাম রাখছে। এ কারণে আগের মতো সার বিক্রি করতে পারছি না। প্রতি বস্তা ইউয়িরা প্রায় ৩৬০ টাকা, টিএসপি সার প্রতি বস্তা ৩৫০ টাকা ও ডিএসপি ২৫০ টাকা বেশি রাখায় আমাদের খুচরা সারের বাজারে প্রভাব পড়েছে। 

এ বিষয়ে দোহারের সারের ডিলারদের সঙ্গে কথা বললে নানান ওযুহাতের কথা জানান। তারা জানান, আমাদেরকে নিজস্ব পরিবহন খরচ দিয়ে  কারখানা থেকে সার এনে সাব ডিলারদের পৌঁছে দিতে হয়।  

দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াজ মুহম্মদ মিঠুন জানান, খুচরা পর্যায়ে সারের দাম বেশি না নেওযার জন্য বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ বেশি দাম নেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমরা আমাদের  উপ সহকারী কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত মনিটরিং করার কথা জানিয়েছি।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর