হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত থেকে বয়ে আসা উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়বাসী। সূর্যের দেখা নেই। দিনভর ঘন কুয়াশা আর হাড় কাপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হিমশীতল বাতাসে জেঁকে বসেছে শীত। তেঁতুলিয়াসহ জেলার আশপাশের এলাকায় বিকেলের পর শুরু হয় ঘন কুয়াশা। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় কুয়াশার দাপট। রাতভর শিশিরের মতো কুয়াশা ঝরে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৭ শতাংশ ছিল। গতকাল তেতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উত্তরের হিমেল বাতাস আর ঘনকুয়াশায় শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে হালকা কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত অনুভূত হয়। রাতভর হালকা থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে এলাকা। তবে ভোরের দিকে সূর্য উদয়ের সঙ্গে কমতে থাকে ঠাণ্ডার অনুভূতি। তবে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে আবারও শুরু হয় শীতের অনুভূতি। তবে রাত নামতেই প্রকৃতি হয়ে উঠছে আরও নিষ্ঠুর।
অন্যদিকে, এ জেলায় হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতের কারণে কারণে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বেশি বয়স্করা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মেঝে বা বারান্দায় স্থান নিয়েছেন অনেক রোগী।
উপজেলা সদরের মমিনপাড়া এলাকার ইজিবাইকের চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডার জন্য কেউ গাড়িতে ওঠে না। আমাদের আয় কমে গেছে। সারাদিন ৩০০ টাকাও ইনকাম হয় না। খুব কষ্টে আছি।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আজ রোববার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনের দিকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি

