কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর আবেগে আপ্লুত হয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালামকে কাঁদতে দেখা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবেগ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আবুল কালামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
এ আসনে ১৩ জনের মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কেঁদে ফেলেন আবুল কালাম। এ সময় পাশে থাকা নেতাকর্মীরা তার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন।
গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মো. আবুল কালাম বলেন, ধানের শীষ প্রতীক শুধু আমার একার প্রতীক নয়। এ প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান ও লাকসাম মনোহরগঞ্জবাসীর।
এ প্রতীক আমাকে দেওয়া হয়েছে। এখন আমার ওপর এই প্রতীককে বিজয়ী করা বড় দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। আমি আমার মনোহরগঞ্জ ও লাকসামের সব মানুষকে নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করব।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দলের ওপর, নেতাদের ওপর এবং এলাকার মানুষের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস।
আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, শুধু মানুষের ভালোবাসা আর দোয়া চাই।
এদিকে একই আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদ আহমেদ হোসাইনীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর তিনি বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী আবুল কালামের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।
রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ধানের শীষ মার্কাতেই ভোট দিতে হবে। কিন্তু এর আগে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে মাঠে সক্রিয় থাকা আবুল কালামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
আমরা এটিকে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো স্বপ্ন দেখছি।
প্রতিনিধি/ এজে

