সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যশোরের ৬টি আসনে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

যশোরের ৬টি আসনে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এতে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) যশোর-৫ ও ৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬টি মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।


বিজ্ঞাপন


রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৫ (মণিরামপুর) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। মণিরামপুরে ৮জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৪ জনের।

বাতিল হওয়ার মধ্যে আছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার ১ শতাংশ ভোটারের ত্রুটি রয়েছে। এছাড়া বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টি প্রার্থী এম এ হালিম। তার ফরম অসম্পূর্ণ ছিল ও সাক্ষীর স্বাক্ষর ছিল না। অন্যদিকে, ১ শতাংশ ভোটারের ত্রুটি কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বিএম গোলাম মোস্তফা ও মো. নজরুল ইসলাম মনোনয়ন বাতিল। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৫ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন- মো. রশীদ আহমাদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি), মো. জয়নাল আবেদীন ইসলামী (আন্দোলন বাংলাদেশ), গাজী এনামুল হক বাংলাদেশ (জামায়াতে ইসলামী), শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র)।

আরও পড়ুন

যশোর-২: জামায়াত-বিএনপিসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

যশোর-৬ আসন থেকে মনোনয়ন দাখিল করেন ৫ জন। এর মধ্যে ফরম অসম্পূর্ণ ও সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকায় জি এম হাসান (জাতীয় পার্টি) ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ঋণ খেলাপি দায়ে মো. শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে মনোননয়পত্র বৈধ্য আছে- মো. মোক্তার আলী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. মাহবুব হাসান (আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি), মো. আবুল হোসেন আজাদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি)।


বিজ্ঞাপন


যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আজ দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এদিন যশোর -৫ ও ৬ আসনে যাচাই বাছাইয়ে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে ৪টি আসনে যাচাই বাছাই করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পিতবার যাচাই-বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

 এদিন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন

যশোরে দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ পাঁচ জনের মনোনয়ন বাতিল

এদিকে, শুক্রবার যশোর-৩ সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপি ছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন- জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী রাশেদ খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।

এছাড়া যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণ খেলাপি রয়েছেন। টিএস আইয়ুবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেনি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর