বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

দাম্পত্য কলহে ‘তৃতীয় পক্ষ’ জাকিয়া, অভিযোগের পাহাড় নিয়ে থানায় গৃহবধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

G

দাম্পত্য জীবনে ‘তৃতীয় পক্ষের’ হস্তক্ষেপ, এক লাখ টাকার লেনদেন ও হুমকির অভিযোগ ঘিরে গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জাকিয়া পারভীন নামের এক নারীকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন মারিয়া খানম নামের একজন গৃহবধূ। 

জাকিয়া পারভীনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালীয়া উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার কালীনগর গ্রামের বাবা মৃত জাফর আহম্মেদের মেয়ে।


বিজ্ঞাপন


গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগী সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

মারিয়া খানম লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ইনাল পারভেজ খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে পিতার বাড়িতে রেখে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী তার খোঁজখবর ও ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

এজাহারে মারিয়া দাবি করেন, তার স্বামী ইনাল পারভেজ খানের সঙ্গে জাকিয়া পারভীনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি একাধিকবার উভয়কে সতর্ক করলেও তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন।

জাকিয়া পারভীনের সঙ্গে তার স্বামীর অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করেন মারিয়া। এ সংক্লান্ত কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


এজাহারে মারিয়া আরও অভিযোগ করেন, জাকিয়া পারভীন ও ময়না বেগম নামের অপর এক নারীর প্ররোচনায় তার স্বামী টাকার জন্য চাপ বাড়ান। এছাড়া গত ২৩ অক্টোবর গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ২ নভেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৯) করেন।

সবশেষ গত ৪ ডিসেম্বর বিকালে ব্যাংকপাড়া লিচুবাগান মহল্লায় স্বামীর বোনের বাসায় ডেকে নিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মারিয়া। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) এবং ব্যাগে থাকা ৫ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়।

মামলায় জাকিয়া পারভীনের বিরুদ্ধে বৈবাহিক সম্পর্কে হস্তক্ষেপ, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্ররোচনা এবং হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত জাকিয়া একজন খারাপ চরিত্রের মেয়ে। তার ইতিপূর্বে ৩টি বিয়ে হয়েছিল এবং তার প্রথম স্বামীর পক্ষের একটি ৮/১০ বছর বয়সী মেয়ে সন্তান আছে। যাকে অন্য এক নারীর কাছে রেখে সে কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে কুমারী হিসেবে দাবী করে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে। 

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকিয়া পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর