পৌষের হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতি যখন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে, ঠিক তখনই রাজবাড়ীর অলিগলি ম ম করছে নতুন চালের গুঁড়ো আর গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণে। সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে জ্বলছে পিঠা তৈরির চুলার আগুন। সেই উনুন থেকে ওঠা গরম ধোঁয়ার টানে ভিড় জমছে ভোজনরসিকদের। নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে বাড়ির উঠোনের সেই চিরচেনা পিঠা-উৎসব যেন এখন ঠাঁই করে নিয়েছে রাজবাড়ীর ফুটপাতের ছোট ছোট দোকানগুলোতে। কোনোটিতে ভাপে সেদ্ধ হচ্ছে ধবধবে সাদা ভাপা পিঠা, আবার কোথাও মাটির ছাঁচে তৈরি হচ্ছে গরম চিতই যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে ঝাল শুঁটকি কিংবা সরিষা ভর্তার ঝাঁজ।
গোধূলি বেলায় হালকা কুয়াশা নামতেই পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করেন মৌসুমি বিক্রেতারা। শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এসব দোকান। অলিগলি ও রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকানগুলোতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে পিঠা খাচ্ছেন ভক্তরা। কেউ কেউ পিঠা খেতে খেতে মেতে উঠছেন আড্ডায়, আবার অনেকে বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
পিঠা খেতে আসা ক্রেতা মো. মাহফুজ বলেন, ‘আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। আগে বাড়িতে পিঠা বানানোর হিড়িক পড়ত, এখন ব্যস্ততার কারণে তা আর তেমন দেখা যায় না।’

আরেক ক্রেতা মো. সিরাজুল বলেন, ‘কাজ শেষে প্রায়ই এখান থেকে পিঠা কিনে খাই। এতে সন্ধ্যার নাস্তার পাশাপাশি শীতের আমেজও পাওয়া যায়।’
ক্রেতা রূপালী বেগম জানান, অনেকেই শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চলতে ফিরতে গরম গরম ভাপা কিংবা চিতই পিঠার স্বাদ নিতে বেশ ভালোই লাগে।
বিজ্ঞাপন
শহরের পান্না চত্বরের পিঠা বিক্রেতা সালেহা বেগম জানান, চালের গুঁড়ো, নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। অন্যদিকে, চালের গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে মাটির ছাঁচে তৈরি করা হচ্ছে চিতই পিঠা।
কলেজ মোড় এলাকার বিক্রেতা আরশেদ আলী বলেন, ‘ধনেপাতা, সরিষা, কাঁচা মরিচ ও শুঁটকি ভর্তাসহ প্রতিটি চিতই পিঠা ৫ টাকায় বিক্রি করছি। মানভেদে এক প্লেট হাঁসের মাংস ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতিটি ভাপা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেচাকেনা বেশ ভালো।’
নারী বিক্রেতা কুলসুম বেগম বলেন, ‘পিঠা বিক্রি করে অনেকের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। অনেক নারীই এখন এই কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন।’

চলতি মৌসুমে রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক পিঠার দোকান বসেছে। প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন গড়ে ১০ কেজি চালের গুঁড়োর পিঠা বিক্রি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাসে জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার পিঠা বিক্রি হবে।
প্রতিনিধি/একেবি

