শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে দল থেকে অব্যাহতি পেলেন বিএনপি নেতা

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

শেয়ার করুন:

ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে দল থেকে অব্যাহতি পেলেন বিএনপি নেতা
ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও বিএনপি নেতা

বগুড়ায় ট্রাফিক পুলিশের উপর চড়াও মারমুখি আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে তাকে দলের প্রাথমিক পদসহ সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাশফিকুর রহমান মামুন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অব্যাহতি পাওয়া নেতার নাম নাজিউর রহমান নাজির। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সহ- যুব বিষয়ক সম্পাদক। 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়েন নাজিউর রহমান নাজির। তিনি সিগন্যাল উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক ( এটিএসআই) জয়নাল আবেদীন তার রিকশাটি আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজিউর রহমান নাজির রিকশা থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জয়নাল আবেদীনের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারমুখি অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতেই ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হন।

এরপর শুক্রবার বিকেলে বিএনপি নেতা নাজিউর রহমান নাজির শাজাহানপুর উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন করে এঘটনার জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে নিয়ে কোচিং যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়ি। এসময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ করি রিকশাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জয়নাল আমার মেয়ের সামনে আমাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করেন। এতে মেয়ের সামনে নিজেকে অপমানিত বোধ করি এবং উত্তেজিত হয় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করি—যা মোটেও ঠিক হয়নি।


বিজ্ঞাপন


বগুড়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক ( এটিএসআই) জয়নাল আবেদীন বলেন, তার সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ দেখেছেন। আমরা তিনজন ট্রাফিক ডিউটি করছিলাম। আমরা শান্ত ছিলাম। স্থানীয় লোকজন ভিডিও করেছেন এবং তারাই তাকে নিবৃত করেছেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরপরই ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করি। পুলিশ সুপার ছুটিতে আছেন। তিনি আসলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর