শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

গাড়ি-প্লট নেই, রাশেদ খাঁনের স্বর্ণ আছে ৩০ ভরি, স্ত্রীর ১০ ভরি

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

গাড়ি-প্লট নেই, রাশেদ খাঁনের স্বর্ণ আছে ৩০ ভরি, স্ত্রীর ১০ ভরি
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ) ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দাখিল করেছেন ৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন, জামায়াতে ইসলাম সমর্থিত আবু তালিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হেভিওয়েট প্রার্থী। এ তিন প্রার্থী তাদের নির্বাচনি হলফনামায় সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলাম সমর্থিত প্রার্থী আবু তালিব তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি, ব্যবসা ও নিজের চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। নগদ অর্থের পরিমাণ ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা ও স্ত্রীর আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার স্বরূপ পেয়েছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। বাড়ির আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মোটরযান, কৃষি জমিসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ও স্ত্রীর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।


বিজ্ঞাপন


thumbnail_Abu_talib_photo

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ টাকা। স্বর্ণ ও এ জাতীয় গহনার পরিমাণ ২২ ভরি। উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন ৪৭.১৯ শতক জমি। আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ বর্তমানে তার ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে তিনি তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

thumbnail_Firoj

গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন রাশেদ খাঁন। যোগদানের পরেই ঝিনাইদহ-২ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে পেয়েছেন ধানের শীষের মনোনয়ন। তবে, জাতীয় পর্যায়ের তরুণ এই নেতার নেই ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও জমি। নির্বাচনি হলফনামায় রাশেদ খান এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


রাশেদ খাঁনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে তার নামে দুটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলা থেকে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তার নামে দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।

হলফনামায় রাশেদ খাঁন নিজের পেশা হিসেবে রাজনীতি ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। নিজের স্ত্রীকে উল্লেখ করেছেন গৃহিণী হিসেবে।

এ ছাড়া বার্ষিক আয়ের হিসাবে তিনি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হলফনামা জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত আয় দেখিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এই আয়ের সবটুকুই ব্যবসা থেকে অর্জিত। তবে তার নামে কোনো শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত নেই বলে হলফনামায় বলা হয়েছে। এমনকি দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

পটুয়াখালী-২: বিএনপির প্রার্থী কোটিপতি, আছে ডুপ্লেক্স বাড়ি-গাড়ি

হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে (জমাদানের দিন পর্যন্ত) রাশেদ খানের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। এবং তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আলো’র রয়েছে নগদ ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখা ও ঢাকা সেনানিবাস শাখায় রাশেদ খানের ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বমোট ৭ হাজার ৫৮২ টাকা জমা আছে।

হলফনামায় রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেছেন, তার নিজের রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণ এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি। এ সব স্বর্ণ তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অর্জিত স্বর্ণ, ব্যাংকে জমাকৃত টাকা ও নগদ অর্থ অর্জনকালীন মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যার বর্তমান মূল্য ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা।

এছাড়া তার স্ত্রীর নামে স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও উপহার সামগ্রী মিলিয়ে অর্জনকালীন আনুমানিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

তবে রাশেদ খাঁনের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা জমিজমা, প্লট, গাড়ি বা বাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও কোনো বাড়ি, গাড়ি, জমি বা প্লট নেই।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমাদান তথ্যে তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। এবং সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৫ টাকা। তিনি চলতি অর্থবছরে ৫ হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর