বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মৌলভীবাজারে কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

মৌলভীবাজারে কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া

কনকনে শীত আর কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া। তীব্র শীত উপেক্ষা করে বাইরে বের হয়েছেন মানুষজন। হাঁড় কাঁপুনি শীত কাবু করেছে সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ী এলাকার জেলা মৌলভীবাজারের নিন্মআয়ের মানুষদের।

এই শীতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতের দাপটে মৌলভীবাজার জেলায় জনজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। রাতে ঘন কুয়াশা আর সকালের ঠান্ডা বাতাসে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন জেলার ৯২টি চা-বাগানের চা-শ্রমিক পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে হাওরাঞ্চল খোলামেলা থাকায় হিমেল হাওয়ার সরাসরি আঘাতে হাওরপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এছাড়াও শহরাঞ্চলেও দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরেই কাজে বের হতে হয় অনেককে, যাদের কাছে শীত মানে দুর্ভোগের আরেক নাম। শীত থেকে সামান্য আরাম পেতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনে উষ্ণতা খুঁজছেন। রাত নামলেই শহর ও গ্রামে এমন আগুনের পাশে জড়ো হন অনেকে, যেন একটু গা গরম করা যায়।

কাওয়াদিঘি হাওরপাড়ের কৃষক মুখোন্দ সরকার বলেন, বেশি শীত পড়লে চাষাবাদ করতে কষ্ট হয়। এমনিতে হাওর এলাকায় বাতাস বেশি থাকে, এর মধ্যে রোদের দেখা না মিললে কাজ করা যায় না।


বিজ্ঞাপন


দেওড়াছড়া চা-বাগানের চা-শ্রমিক উর্মিলা উড়াং বলেন, অনেক শীত পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। আমাদের সাহায্য দেওয়ার দাবি জানাই।

চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন এস এম শুভ। তিনি বলেন, চা-শ্রমিকেরা যা মজুরি পান, তা দিয়ে মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না। তাদের অধিকাংশের শীতের পোশাক কেনার সাধ্য নেই। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা না পেলে তাদের চলা মুশকিল।

thumbnail_1000182180

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, জেলায় তাপমাত্রা ক্রমশ কমে আসায় সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার গরিব অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য আরও কম্বল পৌঁছে দেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, আজ (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে জেলায় শীত পুরোপুরি শুরু হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর