বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে সহকারী শিক্ষকেরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি’ পালন করছেন। এই কারণে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকেরা একাই বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছেন।
এদিকে, বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
বিজ্ঞাপন
বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি এলাকার অভিভাবক ইয়াসমিন বলেন, ‘এভাবে হঠাৎ স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে ছোট ক্লাসের বাচ্চারা পড়াশোনা থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু পরীক্ষা চলাকালে কেন? শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দাবি আদায় করতে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের বাচ্চাদের।’ সিরাজুল ইসলাম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষকদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে এই ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের দাবিগুলো হলো: সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করা; ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর করা; সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
শিক্ষক নেতারা জানান, গত ৮ ও ১০ নভেম্বর ঢাকায় আন্দোলনের সময় বহু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একজন সহকারী শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন। দাবিগুলো নীতিগতভাবে মানার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা আবার কর্মসূচিতে নেমেছেন। তাদের ভাষ্য, ‘ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি না। দাবি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত ক্লাসে ফিরব।’
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজোয়ান হোসেন বলেন, সহকারী শিক্ষকেরা আন্দোলনে থাকলেও জেলার সব বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। প্রধান শিক্ষকেরা পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে নয়।’
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

