বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে: মুজিবুর রহমান

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে: মুজিবুর রহমান

২০১৪ সালে বিনা ভোট, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আর ২০২৪ সালে ভোট দিতে কেউ যায়নি। ভোট কেন্দ্রে মানুষ ছিল না, কুত্তা ছিল মাঠে। কুত্তা শুয়ে থাকার নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না। গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ্ ময়দানে অনুষ্ঠিত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণভোট হলে ক্ষতি কী? গণভোট মানে জনগণ ভোট দেওয়া। বরং গণভোট হলেই কল্যাণ। যারা গণভোট চায়, তারা ভালো চায়। আর যারা গণভোট হতে দিতে চায় না, তারা ভালো চায় না। তারা চায় জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হোক, যাতে করে রেজাল্ট না আসুক। গণভোট ঠিক করবে সংসদ নির্বাচন, তাহলে একই দিনে যদি গণভোট হয়, সেই গণভোটের রায় সংসদ নির্বাচনের কোনো কিছু করতে পারবে না। সোজা কথাটাও তারা কেন বুঝছে না? যাই হোক, যখনই গণভোট আসবে, তখনই আমরা গণভোট দেবো। তবে গণভোট আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে চাই। যারা গণভোটের বিপক্ষে তারা পরাজিত হবে ইনশাল্লাহ। তাদের পরাজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। 

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেলেও যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। ইসলামের জন্য আর একটি যুদ্ধ বাকি আছে। ইসলাম কায়েম করার যুদ্ধ। বদর, উহুদ, খন্দকে সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে জীবন দিয়ে কোরআনের আইন চালু করেছেন, সেই সাহাবিদের অনুসরণে আপনাদের আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে। হাত উঁচিয়ে আল্লাহকে দেখান, বাংলাদেশের মাটিতে কোরআনের আইনের জন্য আমরা যুদ্ধ করব, ইনশাল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, মানুষের কল্যাণের জন্য আমাদেরকে রাজনীতি করতে হবে। সমস্ত কাজের কেন্দ্রবিন্দু হবে মানুষের কল্যাণ করা। ব্যক্তি কল্যাণ, স্বার্থপরতা, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ— এই সমস্ত খারাপ কাজ করলে আখিরাতে কোনো কল্যাণ পাওয়া যাবে না। ৫৪ বছর ধরে কয়েকটা সরকার এসেছে, কোনো সরকারই মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে নাই। হয় ব্যক্তির জন্য, না হয় দলের জন্য কল্যাণ করেছে। আর না হয় দুনিয়ায় কিছু মানুষের উপকার করার জন্য কাজ করেছে। তারা আখিরাতের কল্যাণের জন্য কাজ করেনি।

নায়েবে আমির বলেন, আমরা আট দল ঘোষণা দিচ্ছি, আমরা দুনিয়ারও কল্যাণ করতে চাই। আখিরাতেও কল্যাণ করতে চাই। আখিরাতের কল্যাণের জন্য আবু সাঈদ-মুগ্ধদের মতো জীবন বিলিয়ে দিতে হবে। আমরা আল্লাহর আইন চালু করতে জীবন দিতে রাজি আছি।


বিজ্ঞাপন


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রংপুরে জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ সমমনা দলের অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশ শুরু পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। সমাবেশে বক্তব্য দেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম।

এর আগে, কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের শুরুতে রংপুর মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল হুদা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর মহানগর সেক্রেটারি আমিরুজ্জামান পিয়াল, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলার আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর