নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। পায়ে হেঁটে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাইছেন শাপলা কলি প্রতীকের জন্য।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেবিদ্বার উপজেলার ১৮টি স্থানে পদযাত্রা ও উঠান বৈঠক করেছেন হাসনাত। এসব অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতীক শাপলা কলিতে ভোট চেয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এদিন সকালে উপজেলার খাদঘর এলাকা থেকে শুরু করে রাতে আটাপুর সিরাজ মাস্টারের বাড়ির উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। এসব পদযাত্রা এবং উঠান বৈঠকে সাধারণ ভোটারদের বেশ সাড়া পেয়েছেন তিনি। প্রতিটি স্থানেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কূরছাপ এলাকার পদযাত্রায় হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনি আমি নাকি ৫০০ ভোট পাব! ৯ মাসের একটি নতুন দল যদি বাপ-দাদার পরিচয় ছাড়া ৫০০ ভোট পায়, এটাও অনেক বড় বিষয়। আমি খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি হয়ে আসছি। একজন রাজমিস্ত্রীর ছেলে হয়ে এমপি নির্বাচন করছি—এটাই তো অনেক। আমার বড় বংশ নেই, টাকা-পয়সা নেই, বিদেশে পড়াশোনা করি নাই; আপনাদের মধ্য থেকেই আমি উঠে এসেছি।’
অন্য একটি স্থানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাসনাত বলেন, ‘চাঁদাবাজি করার চেয়ে ভোট ভিক্ষা করা অনেক ভালো। মদ-গাঁজা বিক্রি করে আয় করার চেয়ে, বাজারের তোলা তোলার চেয়ে মানুষের থেকে ভোট ভিক্ষা করা অনেক ভালো। আমরা মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করব। বলব, ভাই! উপরে আল্লাহ, নিচে আপনারা আছেন; ভোট করার আমাদের এজেন্টও নাই। ৫০০-এর ওপরে ভোটও পাব না। আপনারা দুইটা-একটা করে ভোট আমাদেরকে ভিক্ষা দিয়েন।’
‘আমরা একটা প্রতীক পেয়েছি, শাপলা কলি। আল্লাহ যদি রিজিক রাখে, তাহলে পাব, না হলে পাব না। রিজিকের ওপরে তো কিছু নেই। কেউ আমাদের পাথর মারলে আমরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করব। কেউ গালি দিলে সালাম দেব। বাকিটা আল্লাহর হাতে। আপনারা বিভেদে যাবেন না।’
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেবিদ্বার গজারিয়া এলাকা থেকে শুরু করে সারাদিন ১৫টি স্থানে পদযাত্রা ও উঠান বৈঠক করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির এই হেভিওয়েট প্রার্থী।
প্রতিনিধি/একেবি

