মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

অনেকের শাসন দেখেছেন, এবার ইসলামপন্থীদের সুযোগ দিন: চরমোনাই পীর

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

অনেকের শাসন দেখেছেন, এবার ইসলামপন্থীদের সুযোগ দিন: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর, চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘আপনারা অনেক শাসন দেখেছেন, এবার ইসলামকে সুযোগ দিন। আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দেব, ইনশাআল্লাহ। ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, অবিচার, খুনাখুনি থাকবে না; দেশের টাকা বিদেশে পাচার হবে না।’

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে ৮টি সমমনা দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 'জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ' ৫ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।


বিজ্ঞাপন


চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘আমরা এ দেশকে মুক্ত করার জন্য রাজপথে আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। কিন্তু চাঁদাবাজি দেখার জন্য রাস্তায় নামিনি, মানুষ খুন হবে এটা দেখার জন্য রাস্তায় নামিনি। আমাদের দেশ নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘যারা অতীতে ক্ষমতায় গিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদেরকে এদেশে আর সুযোগ দেয়া হবে না। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্টেশন দখলের সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলছি, ‘আপনাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে’। এখনো আপনারা পরিবর্তন হোন। হাসিনাও বলেছিলেন যে ‘শেখ হাসিনা পালায় না’। কিন্তু তিনি রান্না করা খাবার খেয়েও যেতে পারেননি। সুতরাং দেশের সবার শিক্ষা নিতে হবে। নয়তো এমন পরিণতির জন্য আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

বক্তৃতা শেষে চরমোনাই পীর সাহেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের সুস্থতা কামনা করেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেকে আগে পীর পছন্দ করতাম না। আমিও ছাত্রজীবনে এমনটা মনে করতাম। কিন্তু আজকে চরমোনাই পীর সাহেবের পাশে বসে মনে হলো তিনি শুধু পীর নন, তিনি এদেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠার একজন মহাবীর।’


বিজ্ঞাপন


মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৮ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আল্লাহ তায়া’লা কুরআনে দুটি দলের কথা বলেছেন। একটা হলো হিজবুল্লাহ (আল্লাহর দল) আরেকটা হিজবুশ শয়তান (শয়তানের দল)। সুতরাং আমরা আল্লাহর দলে থাকতে চাই। আসুন আমরা একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুরআনের আইন চালু করি।’

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা মানবরচিত আইনের সংবিধান দেখতে চাই না। মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে আমরা সংবিধান থেকে ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে চাই।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।’ এসময় তিনি ৮ দলকে আগামী দিনে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

Untitled-1

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, সহকারী মহাসচিব মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসির আজাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

৮টি সমমনা দলের বিভাগীয় সমাবেশ দুপুরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগদান করে। এই সমাবেশ ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর