কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিএনপির একটি ইউনিয়ন কার্যালয় ও এক কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির তিনজন ও জামায়াতের একজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের জগন্নাথদীঘির উত্তর পাড় এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য বিএনপি ও জামায়াত নেতারা পরস্পরকে দায়ী করেছেন। দুই পক্ষই থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে কথা–কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু হয়। এ সময় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন কর্মীকে কুপিয়ে জখমসহ ছয়জনকে আহত করা হয়। একই সময় জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক কর্মীর মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে পাশের বিজয়করা গ্রামে বিএনপি কর্মী রাজুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
গুরুতর আহত বিএনপি কর্মী সাইফুল ও নুরুন্নবীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরেক কর্মী আলম চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মী মো. ইসমাইল হোসেনকেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, রোববার রাতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ৬-৭ জন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন। এমন সময় জামায়াত-শিবিরের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন কর্মী রক্তাক্ত আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত আরও তিনজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। কার্যালয়ে হামলার পর তারা বিজয়করা গ্রামে বিএনপির এক কর্মীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।
বিজ্ঞাপন
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের কর্মীদের স্থানীয় বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তারা ইসমাইলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করেন। তার পুরো মাথায় কোপানো হয়েছে। এ ছাড়া হাত ও পায়েও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইসমাইলকে এভাবে কুপিয়ে জখম করায় স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির কার্যালয় ও তাদের এক কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জেনেছেন। এতে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, রোববার রাতে দুই দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে জড়ানোর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে থানায় পালটাপালটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে

