বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ক্যাব।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রংপুর নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে দিনব্যাপী বিভাগীয় খাদ্য সমৃদ্ধকরণ ও ভোক্তা অধিকার শীর্ষক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ক্যাবের কাজ শুধু বাজার মনিটরিং নয়। নাগরিক অধিকার বিষয়ে কাজ করতে হবে। যেমন, ওষুধের ফার্মেসিগুলোতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, নিম্নমানের ওষুধ, দাম বেশি, মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রয় না করে। এছাড়াও সার সিন্ডিকেট, পরিবহন সিন্ডিকেট, ভেজাল বীজ বিষয়েও সচেতনতা বাড়াতে ক্যাব সদস্যরা ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়াও বাজারে ভোজ্যতেল যাতে খোলা ড্রামে বিক্রয় না হয়। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিদফতর, বিএসটিআই, কৃষি বিভাগ, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তাদের পাশাপাশি থেকে ক্যাবকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২৪ এর গণঅভুত্থানে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের রংপুর নানা রকমের সমস্যা রয়েছে। এখানে রংপুর মেডিকেল চিকিৎসা হয় না, এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালোভাবে পড়ালেখা হয় না। এখানে আলু নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কৃষির নানা রকমের সমস্যা রয়েছে। রংপুরে ডিলারশিপের ঝামেলা রয়েছে। ডিলারশিপে লাভের জন্য অনেকের আগ্রহ বেশি। রংপুরের মানুষ কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না। এখানে পথে পথে পরিবহনে চাঁদাবাজি হয়। তাই শুধু ক্যাবের পরিচয় দিয়ে ডিসির সঙ্গে মিটিং করেই ঢেকুর তোলা যাবে না। আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। এগুলো রুখতে ক্যাবকে কাজ করতে হবে। আবু সাঈদের রংপুরের পরিবর্তন করতে হবে। আগের মতো করে চললে হবে না।

বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আমি সরকারে ছিলাম। অনেক বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন আর কোনো বাধা নেই। আমি এখন ক্যাবের মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনের সময় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। অধিক মুনাফার লোভে এটা করবে তারা। সেই বিষয়টিও মনিটরিং করতে হবে। রংপুরে অনেক ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়। সেই বিষয়টি ক্যাব ও জেলা প্রশাসনকে দেখার কথাও বলেন তিনি।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে রংপুর জেলা ক্যাব কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এসময় বক্তব্য দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম, রংপুর জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রাজু, মহানগর ক্যাবের সভাপতি দিলীপ কুমার, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মিঠু, জেলার সহসভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ক্যাবের অন্যান্য নেতারা। বেসরকারি সংস্থার GAIN ফুড সার্টিফিকেশন প্রকল্পের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন, GAIN এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আবুল বাশার চৌধুরী।
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উদ্যোগে বিভাগীয় খাদ্য সমৃদ্ধকরণ ও ভোক্তা অধিকার শীর্ষক প্রশিক্ষণে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা কমিটির সভাপতি, সম্পাদকসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেয়। এ প্রশিক্ষণে সরকারের অন্যান্য দফতরের কর্মকর্তার অংশ নেন।
প্রতিনিধি/এসএস




