বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চাকরির প্রলোভনে নারীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি, গ্রেফতার ১

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ডিবির অভিযানে আওয়ামী লীগের ২৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রতারণার মাধ্যমে অনলাইন অ্যাপসে রেজিস্ট্রেশন ও পরে চাকরির প্রলোভনে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার নাম মো. আব্বাস। তিনি ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে র‌্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।


বিজ্ঞাপন


এর আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাতে ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার গোলকপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই নারীর মামলা দায়ের করে। 

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক নারীকে বিভিন্ন অ্যাপসে অনলাইনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দৈনিক এক হাজার টাকা আয়ের কথা বলে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কথা বললে, লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারীর ফোনের ফেসবুকসহ সব তথ্য চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর চক্রের মূলহোতা আব্বাস তাকে ফোন করে প্রথমে ৬ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আগে সংগ্রহ করা গোপন ছবি ও ভিডিও আত্মীয়দের পাঠানোর হুমকি দিতে থাকেন। এরপর টাকা দিতে দেরি হওয়ায় প্রথমে ওই নারীর মামির হোয়াটস নম্বরে তার গোপন ছবি পাঠিয়ে, ওটার স্ক্রিন শট ওই নারীকে পাঠায়।

এরপর ওই নারী বাধ্য হয়ে টাকা দিতে রাজি হলে প্রতারক তার মামির হোয়াটস নম্বরে পাঠানো ছবি, ভিডিও ডিলেট করে দেন। পরে গত ১৫ অক্টোবর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ওই নারী পর্যায়ক্রমে ঘরে রাখা স্বর্ণ, অলংকার বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা পাঠায় আব্বাসের তিনটি (বিকাশ, রকেট ও নগদ) নম্বরে। এরপরও থামেনি আব্বাসের প্রতারণা ফাঁদ। ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে ছড়িয়ে দেয় আব্বাস। পরে ওই নারী বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতাকে শনাক্ত করতে অভিযানে নামে র‌্যাব। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার গোলকপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নারীদের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে আব্বাস। এ চক্রে আরও বেশ কিছু সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ওরা প্রথমে আমার হোয়াটসঅ্যাপ একটি লিংক পাঠিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে কাজের মাধ্যমে দৈনিক এক হাজার টাকার আয় করার অফার দেন। আমি তাদের ফাঁদ বুঝতে না পেরে, ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে আমার ফোনের যাবতীয় ছবি ও তথ্য তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর ওই চক্র আমার ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে বিভিন্ন সময় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আমি মানসম্মান বাঁচাতে টাকা দিতে বাধ্য হই। আমি এ চক্রের সব সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. ইয়াছিন জানান, গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় চক্রের মূলহোতা আব্বাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর