মৌলভীবাজারে অনুকূল আবহাওয়া আর সময় মতো বৃষ্টির ফলে এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আর কিছুদিন পরেই শুরু হবে হেমন্তের সেই চেনা উৎসব, ধান কাটার ব্যস্ততা।

বিজ্ঞাপন
কৃষকরা জানান, এবার অতিবৃষ্টি বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না। পোকামাকড়ের উপদ্রবও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে জমিতে পাকা ধান দেখে অনেকেই আশাবাদী, এ মৌসুমে ভালো ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাবেন তারা। মাঠের সোনালি আভা দেখে এখন শুধু অপেক্ষা, ধান কাটা আর ঘরে ওঠার আনন্দঘন দিনগুলোর।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সারা জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৯৮ হাজার ৩৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫ হেক্টর চাষাবাদ কম হয়েছে। এবার কৃষকেরা ব্রি-ধান ১০৩, ব্রি-ধান ৫১, ৫২ ও ৪৯ জাতের বেশি চাষ করেছেন। এ ছাড়া বন্যার পানি মোকাবিলা করতে সক্ষম ব্রি-ধান, ২২ ও ২৩ জাতের ধান চাষ করেছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের সদর ও রাজনগর উপজেলার অন্তেহরি, কাদিপুর, জগৎপুর, বড়কাপন, মল্লিকসরাই, রায়শ্রীসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ধরে পথ চলতে চলতে যত দূর চোখ যায়, দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোদমাখা ধানের শীষে বাতাসে ঢেউ খেলছে।
আলাপকালে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিগত কয়েক বছর পর পরিমিত রোদ বৃষ্টির কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে গোলায় ধান তুলতে পারবেন তারা।

ফসলে আর কোনো ক্ষতি হবে এমন শঙ্কা কমে গেছে জানিয়ে হাওড়পাড়ের কাদিপুর গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, গতবার ধানের দাম কম থাকলেও এ বছর দাম বেশি হবে বলে মনে করি। আমি এবার ১১ কিয়ার জমিতে আমন ধান করছি।
হাওড়পাড়ের জগৎপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর আহমদ বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। রোদ ও বৃষ্টি ভারসাম্য থাকায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
এবারের মৌসুমে ২৪ কিয়ার জমিতে আমন চাষ করছেন অন্তেহরি এলাকার কৃষক সুভাষ মালাকার। তিনি বলেন, এবারের ধানে তেমন চিটা হয়নি।

আমন খেতের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন জানিয়ে রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, ২৪ সালের বন্যার পানির সঙ্গে পলি মাটি আসার পর থেকে এলাকার জমিতে ফসল ভালো হচ্ছে।
মল্লিকসরাই এলাকায় ১৫ বছর ধরে খেত করে আসছেন রজব আলী। এ বছর প্রায় ৪ কিয়ার জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এ বছর ভালো ধান হয়েছে। প্রতি কিয়ার জমিতে ১৭ থেকে ১৮ মণ ধান আশা করছি। পোকা কিছু আক্রমণ করেছিল, ওষুধ দিয়েছি। বড় কোনো সমস্যা হয়নি।

সদর উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের গৃহস্থ বিষ্ণু দেব চলতি মৌসুমে ১৫ কিয়ার ধানি জমি বর্গা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এবার আমন ধান কোনো দুর্যোগে পড়েনি। পোকার আক্রমণ তেমন ছিল না। ঘরের খাবারের পর ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।
রাজনগর উপজেলার ঘরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ৮ কিয়ার জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ নতুন জাতের এই ধান রোপণ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এখন যদি আর কোনো বিপর্যয় না আসে, তবে ভালো ধান পাব।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে আমাদের আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮ হাজার ৩৫ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর। ১৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি। চলতি মৌসুমে পরিমিত বৃষ্টি হওয়ায় ধানি জমিতে পানি থাকায় ধানের খাদ্যে ঘাটতি দেখা দেয়নি। এতে ফলন ভালো হয়েছে। ধানে চিটা হবে না। ফলন ভালো হওয়ায় ধান উৎপাদনের মাত্রা ঠিক থাকবে।
প্রতিনিধি/ এজে

