চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রো-ভিসি (দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়েও বিশ্বব্যাপী জ্বলজ্বল করে জ্বলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক এখলাসুর রহমানসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু খ্যাতনামা অধ্যাপক দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। এগুলো আমাদের অর্জন।’
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চবির ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ও ফজলুল কাদের চৌধুরীর অবদান অমূল্য। আজকের এই দিনে আমরা তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনের সভাপতিত্বে ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।
তিনি বলেন, ‘এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে ফজলুল কাদের চৌধুরীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। এ ছাড়া সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি অধ্যাপক ড. এ আর মল্লিক স্যারকে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাবেক ভিপি (তৃতীয় কেবিনেট) এবং চবির সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান শিক্ষকদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখানে ড. এ আর মল্লিকের মতো মানুষ শিক্ষক ছিলেন, ভিসি ছিলেন, ড. আব্দুল করিমের মতো মানুষ শিক্ষক ছিলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতো মানুষ শিক্ষক ছিলেন, আবু হেনা মোস্তফা কামালের মতো মানুষ শিক্ষক ছিলেন, শিল্পী রশীদ চৌধুরীর মতো মানুষ শিক্ষক ছিলেন—এসব আমাদের বড় পাওয়া। আমি তাঁদের সশ্রদ্ধ চিত্তে সালাম জানাচ্ছি।’
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চবির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল শাহীন খান, প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহফুজুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকসহ আরও অনেকেই।
এর আগে দিনটি উদযাপিত হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শেষ হয়। এরপর সাড়ে ১০টায় লালগালিচায় কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তখন মাত্র ৪টি বিভাগ, ৭ জন শিক্ষক ও ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। আজ ৫৯ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫২টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট, এক হাজারের বেশি শিক্ষক, দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী।
প্রতিনিধি/একেবি

