আপেল-আঙ্গুর-কলা খায় শেরপুরের ‘ইউটিউবার’

জেলা প্রতিনিধি
শেরপুর
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২২, ০৫:৪১ পিএম
আপেল-আঙ্গুর-কলা খায় শেরপুরের ‘ইউটিউবার’

শেরপুরে সাড়া ফেলেছে ‘ইউটিউবার’ নামের একটি ষাঁড়। তার সঙ্গে সেলফি তোলারও হিড়িক চলছে। ওজন আকৃতি ও সৌন্দর্যে ষাঁড়টি নজর কাড়ে সকলের। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন তাকে দেখতে। অনেকে বলছে, এবার শেরপুরের সবচেয়ে বড় গরু এটি। ৩২ মণ ওজনের ‘ইউটিউবার’-কে কিনতে হলে গুনতে হবে সাত লাখ টাকা। 

শেরপুর পৌর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বাজিতখিলার কুমড়ী এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া। পেশায় তিনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা ও ইউটিউবার। ইউটিউবের আয় থেকে বাড়িতে ফ্রিজিয়ান ও শাহীওয়াল জাতের তিনটি গরু লালন-পালন করছেন। শখ করে একটির নাম দেওয়া হয়েছে ইউটিউবার আরেকটি ষাঁড়ের নাম রাখা হয়েছে সাথী এবং অন্যটি ময়না নামের গাভী। গাভীটিও দিনে আট লিটার দুধ দিচ্ছে।

ইউটিউবার ও খামারি সুমন মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি একজন ইউটিউবার। ইউটিউব থেকে রোজগার করে গরুগুলো লালন পালন করছি। তাই ষাঁড়টির নাম দিয়েছি ইউটিউবার। তার সাথে আরও একটি ষাঁড় পালন করছি। নাম দিয়েছি সাথী। ইউটিউবারকে ঘরের বাইরে তেমন বের করা হয় না। কেউ বাড়িতে এসে ষাঁড়টি ক্রয় করতে চাইলে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করে দেব। আর সাথীকে তিন লাখ টাকা হলেই বিক্রি করব। ইউটিবারের ওজন প্রায় ৩২ মণ। 
cowতিনি আরও বলেন, আমার ইউটিউবারকে প্রতিদিন কলা, আপেল, আঙ্গুরসহ চাল, ভুষি, ছোলা, খেসারি খাইয়েছি। তাছাড়া আমি ও আমার মা-বাবা অত্যন্ত আদর যত্ন করে পেলেছি। আমি এবারের কোরবানিতে ন্যায্যমূল্যে গরুটিকে ছেড়ে দিতে চাই।

সদর উপজেলার চরশেরপুরে ইউনিয়নের যোগিনী মুড়া নামা পাড়া গ্রামের আলমগীর আল আমিন ষাঁড়টি দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি কখনও এত বড় গরু দেখিনি। তাই এ গরুটি দেখতে এসেছি। ষাঁড় দেখে খুব ভালো লাগল। 

শেরপুর শহরের মোবারকপুর মহল্লা  থেকে আসা লাখি আক্তার ঢাকা মেইলকে বলেন, ষাঁড়টি দেখে খুব ভালো লাগছে। টিভিতে দেখেছি বড় বড় গরু কোরবানির হাটে উঠেছে। আজ বাস্তবে দেখলাম। এতো লম্বা ও উঁচু ষাঁড় আমি আগে কখনো দেখিনি।

প্রতিবেশী আরিফুল ইসলাম বলেন, ষাঁড়টি দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার ইচ্ছা আমিও এ রকম একটা গরু পালন করব।
yutuber cowসদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ ক্রান্তি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি সুমনের বাড়িতে গিয়ে তার শখের ‘ইউটিউবারকে’ চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। আমাদের অনেক শিক্ষিত যুবক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার করে লাভবান হচ্ছেন। আমরা তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছি এবং নানাভাবে পরামর্শ ফিয়ে সহযোগিতা করছি। 

জেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা মেইলকে জানান, এ বছর জেলায় কোরবানির গরুর উৎপাদন ৮৩ হাজার ৪শ ১৭টি, বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৫৫ হাজার ৪শ ৬৫টি। এছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ২৭টি কোরবানির হাট ও ৬টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগে পুরো জেলায় ২৩টি ভেটেনারী মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।  

প্রতিনিধি/এএ