শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৮০০ হাঁস নিয়ে পাবনার আলমগীর এখন বগুড়ায়

পারভীন লুনা
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২২, ০২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

৮০০ হাঁস নিয়ে পাবনার আলমগীর এখন বগুড়ায়
ছবি: ঢাকা মেইল

বগুড়া সদরের ফাঁপড় ইউনিয়নের কৈচর গ্রামের চারপাশে তাকালে দেখা মেলে সবুজ  বিশাল মাঠ। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে সেই মাঠ দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিল। রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে হঠাৎ চোখ পড়ে সুন্দর একটা তাবু আর মাঠটির চারধার পলি দিয়ে ঘেরা। খোলা আকাশের নিচে তাবুটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঁস সাঁতার কাটছে, ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছে কিংবা ডুব দিয়ে খাবার তুলে আনছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেল— এগুলো ক্যাম্পবেল (Campbell) প্রজাতির পোষা হাঁস। বিভিন্ন খামারের। অনেকে এখানে এসে গড়ে তুলেছেন এসব ভ্রাম্যমাণ খামার। তাদের একজন হলেন আলমগীর হোসেন। তার খামারে রয়েছে ৮০০টি হাঁস। হাঁসগুলো তার জীবন বদলে দিয়েছে, ঘুরিয়ে দিয়েছে ভাগ্যের চাকা। সংসারে এনেছে সচ্ছলতা।
has boguraকথা হয় আলমগীর হোসেনের (৫০) সঙ্গে। ঢাকা মেইলকে জানান, তার বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর থানার সমাজ গ্রামে। ছোট বেলা থেকে মানুষের বাড়িতে হাঁস চরানোর কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হাঁসের খামার। 

আলমগীর জানান, তার ছিল অভাবের সংসার। নিত্য দিন তার দারিদ্র্যের সঙ্গে বসবাস।নিজের জমি জমা ও নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। তবে নিজে কিছু করবেন সে চেষ্টা তার ছিল। তার মনে ছিল দারিদ্র্য জয়ের স্বপ্ন। অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারছিলেন না। হঠাত তার মাথায় আসে ‘তিনি হাস পালনে খুব পারদর্শী। এটাকে কাজে লাগানো যায় কী করে।’ বাড়িতে মাকে এসে বলেন ‘আমাকে কয়েকটা হাঁস কিনে দাও’, আর গ্রামের যে বাড়িতে হাঁস দেখার কাজ করতেন সে বাড়ি থেকে ২০টা হাঁস নিয়ে আসেন। তিনি আজ ৮০০ হাঁসের মালিক।
bogura hasদেড় লাখ টাকার হাঁস থেকে তিনি বছরে আয় করেন চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। এই জাতের একটি হাঁস ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬০টি ডিম পাড়ে। হাঁসের ডিমের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। ডিম বিক্রি করতে হাটে ঘুরতে  হয় না। হ্যাচারি মালিকরা বাড়ি থেকে ডিম কিনে নিয়ে যায়। হাঁসের ডিম বিক্রি করেই হাঁসের খাবার কেনা ও সংসার খরচ চালানোর খরচ উঠে যায়। এমনকি দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচও চলে হাঁস ও ডিম বিক্রি করেই।

আলমগীর আরও জানান, শীতের মৌসুমে হাঁসের ডিম এবং হাঁস বিক্রি হয় বেশি। এখন তার নিজ এলাকা জমি, খাল-বিল বন্যার পানিতে ভরে গেছে, তাই তিনি হাঁসের খাবার সংগ্রহে হাঁস নিয়ে বাহির হয়েছেন নিজ গ্রাস থেকে বগুড়া শহরের কৈচর গ্রামে। হাঁসের খাবারের দাম বেশি তাই যদি তিনি বাড়তি খাবার কিনে খাওয়ান সবসময় তাহলে। পুঁজির সংকটে পরবেন,তাই তিনি এই ভ্রাম্যমান খামারের পথ বেছে নিয়েছেন।

বলেন, খামারে একটি হাঁসের জন্য যে পরিমাণ খরচ হয়, খোলা বিলে তা অর্ধেকেরও কম। জমিতে হাঁস শামুকসহ বিভিন্ন খাবার সহজেই পায়। ফলে হাঁসের জন্য বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। হাঁস রাখার জন্য কোনো ঘর বানাতে হয়নি তার। ফাকা জমির  ওপর পলিথিন দিয়ে সামান্য খরচে হাঁস রাখার জায়গা বানিয়েছেন তিনি।
bogura hasবর্ষা মৌসুমে আলমগীরের ছয় মাস কাটে খাল, বিলের বাঁধে। বাকি সময় থাকেন তিনি তার এলাকায়। হাঁসের ডিম দেওয়া একেবারে কমে যায়, তখন হাঁস বিক্রি করে দেন। এতে বছরে তাঁর লাভ হয় তিন থেকে চার লাখ টাকা।

আলমগীর বলেন, ‘খুব কষ্টে দিন কেটেছে এক সময়, এখন তা আস্তে আস্তে দূর হচ্ছে।’ কয়দিন পরে ঈদ। তবু এই হাঁসগুলো নিয়ে এলাকায় যাবেন না বলে তিনি।

বলেন, ‘যদি ঈদে যাই তাহলে আবার পিক-আপ ভাড়া করে হাঁসগুলো নিয়ে যেতে হবে, আর হাঁসের খাবারের সংকট দেখা দেবে। কারণ বাড়তি খাবারের দাম বেশি। যা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’ 

প্রতিনিধি/এএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর