এক যুগেও সংস্কার হয়নি ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। খাদা খন্দে ভরা এ সড়কের কারণে গ্রামের কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জন্য কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স এখানে প্রবেশ করতে পারে না। সড়কের দু'পাশেই বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ থাকলেও সেখানকার উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও প্রচণ্ড কষ্ট হয় চাষিদের।
উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের হাজি রহিম উদ্দিনপাড়ার (বকারটিলা) অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে দুর্গাপুর বেড়িবাঁধ বাজার থেকে জামতলা হাটে যাতায়াত করেন অত্র এলাকার অসংখ্য মানুষ। কিন্তু গত ২০১২ বা ১৩ সালে মাটির রাস্তা থেকে ইটের সেলিং এ উন্নীত হলেও মাঝে এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি আর সংস্কার হয়নি। যে কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে ইট সরে গিয়ে যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও, তিন চাকা ও চার চাকার কোনো পরিবহন এই সড়কে চলাচল করতে পারে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
![]()
এ গ্রামের কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জন্য কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স এখানে প্রবেশ করতে পারে না। সড়কের দু'পাশেই বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ থাকলেও সেখানকার উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও প্রচণ্ড কষ্ট হয় চাষীদের। হাজি রহিমুদ্দিন পাড়া ও এর আশপাশের লোকজনের এই সড়কে চলাচলে যে ভোগান্তি হচ্ছে তা নিরসনের জন্য অতি দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার অনুরোধ স্থানীয়দের।
হাজি রহিম উদ্দিনপাড়া বাসিন্দা ইউসুফ আলী মাতবর বলেন, ১৩ থেকে ১৪ বছর আগে এই সড়কে ইট বিছানো হয়, আমাদের বন্যা প্রবন এলাকা, প্রতিবছরই বর্ষার পানি ও কোনো কোনো বছর বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই এক যুগেরও বেশি সময়ে রাস্তার কোনো সংস্কার না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই তা যান চলাচলের একেবারেই অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে আমাদের এলাকার কয়েক হাজার মানুষের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে তাকে আমরা গাড়িতে বা এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে পারি না। এছাড়া আমাদের ফসল পরিবহনের জন্য তিন চাকা বা চার চাকার গাড়ি এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। যা আমাদের চাষিদের জন্য অনেক কষ্টের কারণ। তাই আমরা অতি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।
এলাকার আরেকজন বাসিন্দান্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই সময়ে আশপাশের সব রাস্তায় পাকা এবং অনেক সুন্দর কিন্তু আমাদের গ্রামের ৮/৯ শত মিটারের এই সড়কটি এতটাই ভাঙাচোরা অবস্থায় যা যান চলাচলের জন্য একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ বা অনুপযোগী। তাই অতি দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে আমাদের গ্রামের মানুষকে বন্দির দশা থেকে মুক্তি করলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
![]()
এলাকার বৃদ্ধা মাজু খাতুন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল খুবই কষ্টের। কোনো গাড়ি-ঘোড়া চলে না, বাড়িতে কি কোথাও বের হতে হলে পায়ে হেঁটেই যেতে হয়। এ বয়সে এমন রাস্তা দিয়ে চলা আমার জন্য খুব কষ্টের। আপনারা তাড়াতাড়ি রাস্তাটি সারানোর ব্যবস্থা করেন।
সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, আমাদের এলজিইডির প্রকৌশলী সড়কটি পরিদর্শন করবেন। এরপর আমরা সড়কের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আশা করছি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা সম্ভব হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

