শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া 
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারী বর্ষণ ও ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ফলে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবন দেখা দিয়েছে এবং দৌলতপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের মোট ১৯টি গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামেও আরও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের আবাদি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক ৯০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় বর্তমানে পানি বিপৎসীমার চেয়ে দশমিক ৯০ মিটার নিচে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৩০ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবজি, ভুট্টা, ধান, কলা ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বন্যার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত দুটি ইউনিয়নের ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। গতকাল আমার বাড়িতে পানি ছিল না, আজ ঢুকে গেছে। আমার ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, সবাই পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নিম্নাঞ্চলের ছয়টি গ্রাম সরাসরি প্লাবিত হয়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান হারে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।’

watar

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, ‘নদীর ওপারের ১৬টি গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই এখন পানিবন্দী হয়ে আছে।’

তবে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ১৪ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর