ঝলকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বিএনপির বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করেছে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি।
সোমবার (১১ আগস্ট) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে পূর্বের কমিটি বহাল ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তালুকদার আবুল কালাম আজাদকে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি রাজাপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি পদে থেকে বিএনপি'র সাংগঠনিক নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নির্দেশনার কথা উল্লেখ এবং জেলা বিএনপিকে অবগত না করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে প্রথমে ৪ নং গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপিতে ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি মৌখিকভাবে আপনার কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আপনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন নাই। তাছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ইউনিয়ন বিএনপির ১নং যুগ্ম সম্পাদক কে দায়িত্ব না দিয়ে ডাকাতি মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামিকে সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হলে আপনি সাংগঠনিক নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে বিদ্যমান ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে ১৪/০৬/২৫ তারিখ ৫১ সদস্যের ৪ নং গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। একইভাবে বিগত ০৬/০৮/২০২৫ তারিখ ১নং সাতুরিয়া, ২নং শুক্তাগড় ও ৬নং মঠবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি'র (সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করে ইং ০৭/০৮/২০২৫ তারিখ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এর সাথে আওয়ামী লীগে যোগদান করা এবং বিগত সময়ে ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ও জয় বাংলার স্লোগান দেয়া ব্যক্তি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা এবং ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ আওয়ামী রাজনীতির সাথে ৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত সক্রিয় থাকা তথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা করা বেশকিছু বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে উক্ত ইউনিয়ন সমূহে তারিখ আপনার একক স্বাক্ষরে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। আপনার স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতায় ০৮/০৮/২০২৫ তারিখ রাজাপুর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করেন। আপনার এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমতাবস্থায় ঝালকাঠী জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অসাংগঠনিক পদ্ধতিতে গঠিত ইং ১৪/০৬/২৫ তারিখ ৪নং গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি, ইং ০৭/০৮/২০২৫ তারিখ গঠিত ১নং সাতুরিয়া, ২নং শুক্তাগড় ও ৬নং মঠবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটি বাতিল পূর্বকে ০৮/০৮/২০২৫ তারিখ বিলুপ্ত করা রাজাপুর সদর ইউনিয়ন সহ ৫টি ইউনিয়ন বিএনপি'র পূর্বের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বহাল রাখা হইল।
পাশাপাশি আপনি রাজাপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ব্যক্তি সুবিধা এবং অনৈতিক রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জেলা বিএনপিকে কোনরূপ অবগত না করে আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখা ত্যাগী নির্যাতিত ব্যক্তিদের দিয়ে ইতিপূর্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন বিএনপির উল্লিখিত ৫ টি কমিটি বাতিল করে আওয়ামী দোসর সহ সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে অসাংগঠনিকভাবে আহ্বায়ক কমিটি এককভাবে অনুমোদন দেয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় আপনাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত এবং অসাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হইল অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শান্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
আরও পড়ুন: প্রেমের টানে চীনা যুবক দিনাজপুরে, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তালুকদার আবুল কালাম আজাদ বলেন,জেলা কমিটির উপজেলা কমিটি বাতিল করার ক্ষমতা আছে। আমি তাদের অবগত না করে কমিটি দিয়েছি এখন তারা বাতিল করে দিয়েছে এ নিয়ে আমার কোন প্রতিক্রিয়া নেই।
জেলা বিএনপির দপ্তরে দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, জেলা বিএনপিকে অবগত না করে এককভাবে তিনি ইউনিয়নগুলোতে কমিটি দিয়েছেন এছাড়া যারা বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তাদেরকে বাদ দিয়ে ফ্যাস্টিট দোসরদের কমিটিতে পদ দিয়েছেন। যার কারণে জেলা বিএনপি ওই কমিটি বাতিল করে পূর্বের কমিটি বহাল রেখেছে।
প্রতিনিধি/এজে

