টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না ক্যানসার আক্রান্ত জেলে আমির বয়াতি (৪৫)। দিন দিন যন্ত্রণায় বিষণ্ণ হয়ে উঠছে তার জীবন। অভাব অনটনের সংসারে স্ত্রী-সন্তান থেকেও যেন কেউ নেই উপার্জন করার। ভিটেমাটি বিক্রি করেও আমির বয়াতীর চিকিৎসা করানোর চেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না পরিবারের।
অসহায় এ জেলে পরিবারটির এখন দিন কাটছে অন্যের সহযোগিতায়। কোনোরকম দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা হলেও মিলছে না চিকিৎসার অর্থ। এতদিন পৈত্রিক ভিটেমাটি বিক্রি করা টাকা ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চিকিৎসা চলেছে। স্থানীয়রা কিছু টাকা দিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠালে সেই টাকা টেস্টেই শেষ হয়ে যায়। এরপর আমিরের পরিবার বাড়িতে নিয়ে আসেন টাকার অভাবে। এখন অর্থের অভাবে তার পরিবার চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
আমির বয়াতি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন জেলে। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে তার। বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত আমির বয়াতির চিকিৎসার অর্থাভাবে কাঁদাচ্ছে পুরো পরিবারকে। তিনি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানতে পারেন লাখ লাখ টাকার দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। বর্তমানে দরিদ্র এই পরিবার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম।
অসুস্থ আমির বয়াতি বলেন, আমি যন্ত্রণায় কথা বলতে পারি না। আমি গরিব, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। আমি বাঁচতে চাই। আপনারা আমাকে সাহায্য করুন।
আমির বয়াতীর স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানান, ২৫ বছর আগে তার পায়ে আঘাত পান। তিন বছর আগে সেখানে টিউমার ধরা পড়ে। খুলনা থেকে অপারেশন করাই। কিছুদিন ভালো থাকার পরে আবার সেই রোগে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়রা কিছু টাকা উঠিয়ে দিলে সেটা নিয়ে ঢাকা যাই চিকিৎসা করাতে। কিন্তু সেই টাকা টেস্টেই শেষ হয়ে যায়। এখন তাকে বাড়ি নিয়ে আসছি। টাকার অভাবে লোকটা মারা যাবে? সমাজের বা দেশের কি কেউ নেই যে আমাদের একটু সাহায্য করবে। আমার স্বামীকে চিকিৎসা করাবে।
![]()
আমির বয়াতীর ৭ বছরের ছেলে রমজান বাবার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আমির বয়াতীর প্রতিবেশী শহিদুল জমাদ্দার ও ফারুক বয়াতি জানান, গত ৮ মাস আগে ক্যানসার ধরা পড়ে আমিরের কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি। আমরা গ্রামবাসী মিলে কিছু টাকা সাহায্য করি। সেই টাকা সঙ্গে করে আমরা দু’জনে আমিরকে নিয়ে ঢাকা গেলে সব টাকা টেস্টে শেষ হয়ে যায়। কোনো চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন আমিরের যে পরিমাণ টাকা দরকার চিকিৎসার জন্য সেটা পরিবারের নেই। আমাদের জেলে গ্রাম। এখানে ধনী পরিবার নেই। আমরা পরিবারের পক্ষে থেকে দেশের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিদের বলব তারা যেন আমিরের চিকিৎসায় এগিয়ে আসে। আমির সুস্থ হলে ওর পরিবারটি বাঁচবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বশিরুল ইসলাম জানান, আমির বয়াতি আমার ওয়ার্ডের একজন অসহায় লোক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। তার ভিটেমাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। সরকারি বা অন্য কোনোভাবে সাহায্য পেলে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি।
আমির বয়াতীর পরিবারের আকুতি- সবাই সহযোগিতার হাত বাড়ালে বাঁচাতে পারবেন তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস




