স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশালের ছাত্রজনতা।
রোববার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টামির্নাল নথুল্লাবাদের সামনের মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর দুপুরে মহাসড়কের পাশে গিয়ে আন্দোলন করতে বললে ছাত্রজনতা ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ফের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রজনতা। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল রয়েছে বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী রয়েছে।

গত ১৫ দিন ধরে সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এই দাবিতে গত শনিবার ছাত্রজনতা ও বাসশ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থানে গেলে ছাত্রজনতা আড়াই ঘণ্টা ও বাসশ্রমিকরা দেড়ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে। এছাড়া শুক্রবার সাত ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার আড়াই ঘণ্টা নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনালের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রজনতা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বরিশালের শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের রোগীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে রয়েছে। এছাড়াও সারাদেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোতগত উন্নয়ন দরকার। নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করণ, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। দ্রুত দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালের রাজপথে আসার আহ্বান জানান তারা।

অবরোধে আটকে থাকা বরগুনার যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড গরমে গাড়িতে বসে থাকতে খুবই কষ্ট হয়। এভাবে রাস্তা আটকে জনগণের ভোগান্তির কোনো অর্থ নেই। মহাসড়ক ছেড়ে অন্য কোনো স্থানে এই আন্দোলন করে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি। নারী যাত্রী বৃদ্ধ জয়নব বিবি বলেন, বহুদূর থেকে নির্বিঘ্নে বরিশাল এসেছি। কিন্তু বাড়ির ৫০ কিলোমিটার দূরে অবরোধে আটকে চরম ভোগান্তিতে পরেছি।
মহাসড়ক আটকে জনভোগান্তি সৃষ্টি না করে জনদুর্ভোগহীন কর্মসূচি করা যেত কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, তিন দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে টানা আন্দোলন করছি। প্রথম দিকে আমরা অশ্বিনী কুমার হল, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তাই আমরা বরিশালবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মহাসড়কে নেমেছি। আমরা এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখব।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার বলেন, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আজও মহাসড়ক অবরোধ করেছে। কর্মসূচি স্থলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




