শুকনো খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, রয়েছে সংকট

জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২, ০৪:৩০ পিএম
শুকনো খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, রয়েছে সংকট
ছবি : ঢাকা মেইল

মৌলভীবাজারসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জে শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ মোমবাতির চাহিদা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তি উদ্যোগে মৌলভীবাজার জেলাসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এসব শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় বানবাসিদের জন্য শুকনো খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যের চলছে হাহাকার। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে এসব পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগ করেছেন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে জেলা শহরের পশ্চিম বাজার, টিসিমার্কেট, চাঁদনীঘাটসহ বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়। সেখানে প্রতি কেজি চিড়া ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহেও ছিলো ৬৫ টাকা। আর গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুড়ির দাম এখন ৮০ টাকা। এছাড়া গুড় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। আগের সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট এবং বেশি দামে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করাসহ বন্যায় পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যমূল্যও বেড়েছে।

মৌলভীবাজার জেলার ত্রাণ বিতরণে জড়িত অনেকেই জানান, বন্যা আক্রান্ত অসহায় মানুষদের বিতরণের জন্য হঠাৎ বেড়ে গেছে চিড়া ও মুড়ির দাম, বেড়েছে গুড়ের। পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও মোমবাতি, লাইটের রয়েছে সংকট। অভিযোগ আছে অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামেও মিলছে না এসব পণ্য। তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট।

ত্রাণ বিতরণে জড়িত রিপন দে বলেন, সুনামগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু চাহিদা মতো বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট নিয়ে যেতে পারিনি। সেখানে বোতলজাত পানি দিয়ে হাহাকার কমানো যাবে না। প্রয়োজন বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। কিন্তু সংগ্রহ করতে পারছি না।

শিক্ষার্থী আহাদ, রুবেল, জসিম—নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করছেন। তারা জানান, আমরা ৩০০ মানুষের জন্য শুকনো খাবার কিনতে চেয়েছিলাম। তবে জিনিসপত্রের যে দাম দেখছি, তাতে বাজেট অনুযায়ী ২০০ থেকে ২২০ জনের জন্য কিনতে পারবো। চাহিদা মতো পণ্য পাচ্ছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি উদ্যোগে একজন ত্রাণদাতা বলেন, আপদকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীরা সহযোগিতার বদলে আরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সৃষ্টি করছেন পণ্যের সংকটও।

জেলা বিএমএ-র সভাপতি ড. সাব্বির খাঁন জানান, ২০-৩০ হাজার ওয়াটার পিউরিফাইং ট্যাবলেট কিনতে চাই জেলায় বন্যার ত্রাণে দেওয়ার জন্য। যে কোম্পানি বানায়, তাদের স্টক আউট। বাজারে ওভার রেটে পাওয়া যায়, তাও খুব সীমিত। দামও প্রায় দ্বিগুণ।

ফার্মেসি মালিক মিজানুর রহমান জানান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন সহ বন্যায় প্রয়োজনীয় ঔষধের সংকট রয়েছে, দামও কিছুটা বেড়েছে।

শ্রীমঙ্গলের পাইকারি আড়ত ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা চাই না বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে। কিন্তু আমরা পণ্য না রাখলে বন্যাকবলিত মানুষ আরও সমস্যায় পড়বে। তারা খাবারও পাবে না। এ জন্য বেশি দামে এসব পণ্য কিনে বিক্রি করছি।

শহরের ব্যবসায়ী দয়াল স্টোরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক আকারে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পাইকারি বাজার শ্রীমঙ্গলেও এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ওখানকার ব্যবসায়ীরাই দাম বাড়িয়েছেন। আমরা বেশি দামে কিনছি। এ কারণে আমরা বাধ্য হচ্ছি বাড়তি দামে বিক্রি করতে।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, হঠাৎ বন্যায় শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পণের দামও বাড়ানো হয়েছে। আমরা নিয়মিত তদারকি অভিযান পরিচালনা করছি। জরিমানা করছি। পাশাপাশি সচেতন করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

প্রতিনিধি/এইচই