জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছাত্রলীগের নির্যাতন, মামলা হামলার শিকার হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুরসালিন মুন্না।
জানা যায়, মুরসালিন মুন্না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বেরোবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সদস্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মুরসালিন মুন্নার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আর আওয়ামী প্রশাসনের নানা নির্যাতনের কারণে তিনি মাস্টার্স (২০১৫-২০১৬ সেশন) শেষ করতে পারেননি। অনার্সের ফলাফল প্রকাশের পরও সার্টিফিকেট আটকে দেন তৎকালীন প্রসাশন। এসবের কারণে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে যায়। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি পেয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৪৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মুরসালিন মুন্নার ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়টির প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এরপর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সুপারিশে পুনঃভর্তির বিষয়টির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক পুনঃভর্তি করার জন্য সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় মুন্নার ভর্তির সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৪ মে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে গণিত বিভাগের ১২তম ব্যাচের (২০১৯-২০ সেশনের) সঙ্গে মাস্টার্সে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করেন। এখন তিনি উক্ত ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শুরু করে।
মুরসালিন মুন্না বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা (৪টি) এবং নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকার কারণে ছাত্রলীগের আওয়ামীপন্থি কিছু শিক্ষক এবং প্রশাসনের রোষানলে পড়ি। যার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী রাজনীতি মতাদর্শে ধরপাকড়ের কারণে আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারিনি। নভেম্বর ডিসেম্বরে আমার মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আমি পরীক্ষার আগে কোনো ক্লাস করতে পারিনি। ফলে এই রকম পরিস্থিতির কারণে আমি উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। ২০১৮ পরবর্তী আওয়ামী শাসন আমলে আমি নিজেকে আর নিরাপদ মনে করিনি। তাই নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির কারণে আমি পরবর্তী সেশনে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারিনি।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, মুন্না ১২তম ব্যাচে ভর্তি হয়েছে। তাকে যাথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক পুনঃভর্তি করার জন্য নীতিগতভাবে সুপারিশ গৃহীত হয়। ফলে আমরা তাকে ভর্তি করে নিয়েছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশীদ বলেন, মোরসালিন মুন্নার বিষয়ে গতবছরের অক্টোবর মাসের একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয় এবং সেখানে পাস হয়ে সিন্ডিকেটে তোলা হয়। তারপর সেখানে অনুমোদন পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ভর্তির সুযোগ পান। ১০বছর পর মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবে কি না এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এইরকম নীতিমালা না থাকায় বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয়। এবং সেখানে তার ভর্তির বিষয়টি আলোচনা করে পাস হয়।
প্রতিনিধি/এসএস

