চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বড় মরাপাগলা গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। যেখানে বাবার মৃত্যুর পর পরিবার একত্র হয়ে শেষ বিদায় জানানোর কথা, সেখানে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে স্ত্রী ও কন্যারা বাধা দিয়েছেন মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে।
গতকাল রোববার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মাজেদ বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুর পরও শান্তি মেলেনি তার নিথর দেহের। স্ত্রী ও কন্যারা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে লাশ দাফনে বাধা দেন। মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, আর এলাকার মানুষ বিষণ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, মাজেদ বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রায় ২০ বছর আগে তিনি বিয়ে করেন হানফু খাতুনকে। শুরুতে সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রায় ১০ বছর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শয্যাশায়ী হয়ে যান। এ সময় তার দুই ছেলে—পুলিশ সদস্য আব্দুল জব্বার ও লতিফুর রহমান—চিকিৎসার আশ্বাসে বাবাকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে সব সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেন।
তবে সেই চিকিৎসা আর জীবনের আশা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। গতকাল রাতে যখন মাজেদ বিশ্বাসের লাশ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়, তখনই শুরু হয় নতুন নাটক। স্ত্রী হানফু খাতুন ও মেয়েরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান—সম্পত্তি নিয়ে যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা দাফনে অনুমতি দেবেন না। বিষয়টি বুঝে গ্রামবাসীরাও পাশে দাঁড়ান।
আজ সোমবার, ২৮ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত কাফনে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল মাজেদ বিশ্বাসের নিথর দেহ। লাশ ঘিরে কান্নার রোল ওঠে। স্থানীয়রা বুকে হাত রেখে সালিশে বসেন সমাধানের আশায়। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্তও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
মাজেদ বিশ্বাস যেন জীবনের শেষ অধ্যায়েও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পড়ে আছেন। গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এক অসমাপ্ত বিদায়ের বিষাদ।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি




