রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

১৪ বছরের ফাতেমার পেটে ছিল ১৫ কেজির টিউমার

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

১৪ বছরের ফাতেমার পেটে ছিল ১৫ কেজির টিউমার

কিশোরী ফাতেমার বয়স ১৪ বছর। সে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা আর ফোলাভাব নিয়ে ভর্তি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। তখনও কেউ ভাবতে পারেনি যে তার ছোট পেটের ভেতরে ১৫ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির টিউমার রয়েছে।

নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা, কলেজপাড়ার একটি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী। ধীরে ধীরে শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পরীক্ষার পর ধরা পড়ে যে তার পেটে বিশালাকার টিউমার রয়েছে, যা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে শুরু হয় ফাতেমাকে নতুন জীবন উপহার দেওয়ার যুদ্ধ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, সফল অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. শরিফ মাসুমা ইসমত ও ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন এবং অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ ও ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।

সফল অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে গাইনি কনসালটেন্ট শরিফ মাসুমা ইসমত বলেন, "ফাতেমার পেটের টিউমারটি ছিল বিরল ও বিপজ্জনক। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে। এখন সে সুস্থ রয়েছে।"

এ ব্যাপারে সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আজহারুর রহমান তুহিন বলেন, "অপারেশনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এত বড় টিউমার অপসারণ করতে হলে সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া টিমের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন। আল্লাহর রহমতে এবং আমাদের টিমওয়ার্কের কারণে আমরা সফল হয়েছি।"

অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. খোকন দেবনাথ যোগ করেন, "অপারেশনের সময় ফাতেমার প্রাণ বাঁচানোই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো সময়টা আমরা সতর্ক ছিলাম যেন রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অপারেশন শেষে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।"

অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ফাতেমার মুখেও ছিল হাসি। চিকিৎসকদের প্রতি তার পরিবার অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। ছলছল চোখে তারা বলেন, "আল্লাহর পরে ডাক্তারদের হাতেই নতুন জীবন পেয়েছে আমাদের মেয়ে।"

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর আলম বলেন, "আমাদের হাসপাতালের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফাতেমার মতো রোগীদের বাঁচানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সার্জনরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং সফল হয়েছে। এমন কঠিন অস্ত্রোপচারে টিমওয়ার্কই সবচেয়ে বড় শক্তি।"

প্রতিনিধি/ এমইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর